শরণখোলায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ সুন্দরবন ঘেঁষা শরণখোলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদ-নদীর পানিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে উকুলীয় জনপদের মানুষ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এখানে। প্রায় দেড় লাখ মানুষের আবাসস্থল এই উপজেলা জুড়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন এক প্রকার হাহাকার চলছে। পানি সংরক্ষনের অভাবে পুকুর, জলাশয়, খাল, বিল, নদীসহ বিভিন্ন স্থানের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারন মনুষ। যার ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। অসুস্থদের বেশির ভাগই বৃদ্ধ ও শিশু বলে চিকিৎসকদের সাথে আলাপ কালে জানা গেছে। তাই পানির সংকট নিরসনের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষনের জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ থাকলেও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়সারা তদারকির কারনে তার সুফল বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। ওই বিভাগের তত্বাবধানে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ। জনস¦াস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর দুর্নীতির কারনে মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির সংকট সমাধানে এনজিও গুলোর তেমন কোন কার্যক্রম নেই। উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জনস্বাস্থ্য বিভাগের সিমিত সংখ্যক রেইন প্লান্ট ওয়াটার (পিএসেফ) ও অগভির নলকুপ (টিওবয়েল) থাকলেও তার তদারকির অভাব সহ সংস্কার না করার ফলে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগই বিকল হয়ে পড়েছে। উপজেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলার ৪ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার সহ লক্ষাধিক মানুষের সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান জরুরী। অপরদিকে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগে তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে জানা যায়, তাদের দপ্তরে কোন তথ্য নেই। কিছু জানতে হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে। উপজেলার বগী, চালিতাবুনিয়া, খোন্তাকাটা, ধানসাগর, সাউথখালী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সরবরাহকৃত শতকরা ৯৫ ভাগ পিএসেফ ও টিওবয়েল সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সাউথখালী এলাকার বাসিন্দা শ্রীমতি নুপুর রানী, শাহিনা বেগম সহ অনেকে বলেন, আশেপাসের পানি লবন। তাই বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার চালিতাবুনিয়া বাজারের পুকুর থেকে খাওয়ার জন্য ভ্যান যোগে পানি আনতে হয় এবং রায়েন্দা এলাকার আব্দুল জলিল হাওলাদার, শাহজাহান হাওলাদার, খোন্তাকাটা এলাকার হারুন হাওলাদার, লুৎফর হাওলাদার, ধানসাগর এলাকার রব সরদার সহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানি মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন কিন্তুু এলাকার প্রায় সবকটি পিএসেফ নষ্ট। কিছু সংখ্যক পানির ট্যাংকি দেয়া হলেও দরিদ্র লোকেরা তা পায়নি।
সম্প্রতি এলাকায় জেলা পরিষদের কিছু সরকারি পুকুর সংস্কার করলেও এখন পর্যন্ত তা ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মতো বড় ট্যাংকি ক্রয়ের সামর্থও তাদের নেই। তাই নিরুপায় হয়ে পুকুরের পানি পান করছেন। এ ছাড়া শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রাকিব বলেন, শুষ্ক মৌশুম এলে প্রতি বছর এ অঞ্চলে পানির চরম সংকট শুরু হয়। স্থানীয় ভাবে পানি বিক্রয়কারী ২/১ টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার মান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, জনস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব হীনতার কারনে পানির সকল উৎসই বন্ধ বলা চলে। এছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পানি সংরক্ষনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৩ হাজার লিটারের ট্যাংকি গুলো সঠিকভাবে বন্টন করা হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিভাগের অর্থ বাণিজ্যের কারনে নি¤œবিত্তদের পরিবর্তে প্রভাবশালীরা নিয়েছে একাধিকবার। ওই বিভাগের দুর্নীতির লাগাম টানতে না পারলে পানি সংকট নিরাশন বাঁধা গ্রস্থ হবে। তবে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, তার দপ্তরের কেউ দুর্নীতি গ্রস্থ নয়। সরকারের সকল অনুদান সঠিক নিয়মে বন্টন করা হয়েছে এবং তার দপ্তরের কর্মীরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে যাচ্ছে।

শেয়ার