কীভাবে খেলতে হবে, মাশরাফিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্রিকেটাররা গেলে তাদের বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। অধৈর্য ও হতাশ না হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খেলা দেখতে লন্ডনে যাওয়ার অনুরোধ করলে প্রধানমন্ত্রী মৃদু হেসে তার যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান।
খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলবে, আমরা জিতব। সব সময় মনের মধ্যে আত্মবিশ্বাসটা রাখবে। শেষের দিকে ঘাবড়ে যেও না।”
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মাথা নেড়ে প্রধানমন্ত্রীর কথায় একমত প্রকাশ করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেষের দিকে স্ট্যামিনাটা ঠিক রাখতে হবে। একবার ছয় মারলে মনে হতে পারে পরেরটা আবারও ছয় মারতে পারবে। ওই সময় শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
এই পর্যায়ে বিসিবি সভাপতি পাপন বলেন, “মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) বলেছে, এবার আমরা সবাইকে হারাতে যাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, “আমার ফোন নম্বর তো তোমাদের অনেকের কাছে আছে। তোমরা আমাকে মেসেজ পাঠিও। এরপর ফোনে কথা বলা যাবে। আমি তো অনেকের সাথেই কথাও বলি।”
খেলোয়াড়দের অনেকেই এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে শরীর কমানোর চেষ্টা করেছেন জানতে পেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “একেবারে শুকিয়ে গেলে ফিট থাকবে তা তো না। শুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের দুর্বল করে ফেলো না।”
লন্ডনে বিশ্বকাপ হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী অনেক বাঙালির সমর্থন পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
খেলার ফলাফল যাই হোক না কেন খেলোয়াড় সুলভ মনোভাব নিয়ে সেটা মেনে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
বিসিবি সভাপতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওদের কোনো চাপ দিও না। খেলার ফলাফলের পর ওদের কিন্তু কোনো বকঝকা করবে না। খেলোয়াড় সুলভ মনোভাব নিয়ে ফলাফল মেনে নিতে হবে।”
নাজমুল হাসান পাপন বলেন, “খেলার সময়ই তো আপনি সব সময় এই নিয়ে ফোন করে বলে দেন। তাই আমরা ওদের কোনো ধরনের বকাঝকা করি না।”
এ সময় মাশরাফি বলেন, “একবার টি-টোয়েন্টিতে ভারতের কাছে এক রানে হেরে দলের সবাই মন খারাপ করে সারা রাত ঘরের বাইরে বসে ছিলাম।”
ক্রিকেটারদের মধ্যে পাঁচ-ছয়জন এবার বিশ্বকাপের আগে বিয়ে করেছেন বলে একজন খেলোয়াড় বললে উপস্থিত সবাই হেসে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, “আগামীতে তোমরা এখানে নিজেদের পরিবার নিয়ে আসবে।” মতবিনিময় শেষে ক্রিকেটাররা গণভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

শেয়ার