মহম্মদপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান, নিহত ২

সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে আর জীবিত কেউ নেই বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
সোমবার সকালে টিনশেড ওই বাড়ি ঘিরে অভিযানের পর র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষের মধ্যে অন্তত তিনটি পায়ের অংশ পাওয়া গেছে। অন্তত দুজন সেখানে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা।
নিহতরা কোনো জঙ্গি দলের সদস্য বলে জানালেও তাদের পরিচয় বা তারা কোন সংগঠনের সদস্য সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বেনজীর।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, বিধ্বস্ত ওই বাড়ির ভেতরে অবিস্ফোরিত আইইডি থাকতে পারে। র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে তল্লাশি করছে। তাদের কাজ শেষ হলে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন।
জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য ওই বাড়ির মালিক ওয়াহাব, কেয়াটেকার সোহাগ, তার স্ত্রী মৌসুমী এবং পাশের মসজিদের ইমাম ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পাওয়ার পর রোববার রাত ৩টার দিকে মেট্রো হাউজিংয়ে ৮ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ওই টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব সদস্যরা।
অভিযান শুরুর পরপরই ওই বাসার ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি হয় সেখানে। ভোর পৌনে ৫টার দিকে বড় একটি বিস্ফোরণে ওই বাসার টিনের চাল উড়ে যায়।

সকাল ৯টার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ওই বাড়িতে ঢোকে। ওই সময়ও সেখান থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরে ড্রোন উড়িয়ে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে মহিউদ্দিন ফারুকী জানান।
ওই বাড়ির কেয়ারটেকার সোহাগ র‌্যাব কর্মকর্তাদের বলেছেন, চার কক্ষের ওই টিনশেড বাসার একটি ঘর চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেয় দুই যুবক।
ওই বাসার পাশে কিছুদিন আগে একটি মসজিদ গড়ে তোলা হয়। আটক ইউসুফ ওই মসজিদেরই ইমাম। র‌্যাব কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর বলেন, র‌্যাব সদস্যরা অভিযানের আগে ডাকাডাকি করলেও জঙ্গিরা দরজা খোলেনি। এক পর্যায়ে বাসার ভেতর থেকে র‌্যাব সদস্যদের দিকে গুলি ছোড়া হয়। অন্যদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও অন্তত দেড়শ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভেতরে যে মৃতদেহ আছে সেগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সেগুলো চেনা যাচ্ছে না। কতজন সেখানে আছে সেটা বলা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাজ। যেহেতু সেখানে মৃতদেহগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে তাই সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সেখানে যেহেতু তিনটি পা দেখা গেছে তাই ধারণা করা যাচ্ছে অন্তত দুইজন সেখানে ছিল।”
যারা জঙ্গিবাদে ঝুঁকেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর বলেন, “লোকজন যদি জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হয় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। এরা দেশের দুশমন ও ইসলামের দুশমন। মুসলমানের দুশমন।”

শেয়ার