অব্যাহত তাপবৃদ্ধিতে নাকাল জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বাড়ছে। প্রচন্ড গরমে ঘর বা ঘরের বাইরে সবখানে টেকা দায় হয়ে উঠছে। দিনের সূর্য প্রচন্ড উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বাইরে বের হলে শরীরে যেন আগুনের ছ্যাকা লাগছে। ঘরের ভেতরেও গুমোট গরম। তাপদাহে সবার হাসফাস অবস্থা। দিনে রাতে সব সময় শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে। এক সপ্তাহ ধরে যশোরে ক্রমশ বেড়ে চলা তাপমাত্রার তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
গতকাল সোমবারও যশোরের তাপমাত্রা বেড়েছে। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে এর আগের দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিসের আগামী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু ও মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এর পাশাপাশি দিনে ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
যশোরে তাপমাত্রার তীব্রতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মানুষ। বিশেষ করে প্রচন্ড কষ্টে আছেন শ্রমজীবীরা। দিনে সূর্যের প্রচন্ড তাপের মধ্যে যারা মাঠে ঘাটে কাজ করছেন তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। মাঠে এখন বোরো কাটা চলছে। ধান কাটে গিয়ে গরমে নাকাল হয়ে পড়ছেন কৃষক ও ক্ষেত মজুররা। গরমে অস্থির হয়ে তারা কাজ ফেলে ছুটে এসে ছায়ায় শুয়ে পড়ছেন।
গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে গোছল করার জন্য শহরের পুকুরগুলোয় মানুষ ভিড় করছেন। দুরন্ত কিশোরের দল ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পুকুরে ঝাপাঝাপি করছে। গতকাল শহরের পৌরপার্ক, ডিসি অফিস ও মাইকেল মধুসূদন কলেজের পুকুরে গা ডুবিয়ে গরমে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেককে। তৃষ্ণা নিবারণের জন্য শহরের সরবতের দোকানগুলিতে ভিড় করেছেন অনেকে।

শেয়ার