হামলার পর শ্রীলঙ্কা ফেরত ১১ জন জিজ্ঞাসাবাদে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ তিনটি গির্জা ও চারটি অভিজাত হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত পাঠানো ১১ জন বাংলাদেশ শ্রমিকককে হেফাজতে নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
এই ১১ জন শ্রমিক শুক্রবার দুপুরে দেশে আসার পর সিটিটিসি তাদের হেফাজতে নেয়।
সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “হেফাজতে নেওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসবাদ করা হয়। তাছাড়া বিভিন্নভাবে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
“তারা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সেখানকার একটি কারখানায় চাকরি নেয়। কিন্তু তারা বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত আছে বা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।”
শ্রীলঙ্কার কলসাস মেটাল ফ্যাক্টরি নামে যে প্রতিষ্ঠানে এই ১১ শ্রমিক কাজ করতেন, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইনসাফ ইব্রাহীম বোমা হামলার অন্যতম হোতা বলে সেখানকার পুলিশ জানতে পেরেছে।
ইনসাফ বোমা হামলায় নিজে আত্মঘাতি হন। তারএই প্রতিষ্ঠানটি সে দেশের সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। পরে সেখানকার শ্রমিকদের স্বস্ব দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
মনিরুল বলেন, যে ১১জন তাদের হেফাজতে আছে তাদের ব্যাপারে অপরাধ সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া না গেলে আইনগতভাবে তাদের আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ১১ জন তাদের বলেছেন যে কারখানায় তারা শ্রমিকের মতো ছিলেন, মালিকের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। বোমা হামলার বিষয়েও কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, হামলাকারীদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে তার ভাই ইলহামও ছিলেন। তাদের বাবা শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত কোটিপতি মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহীম।
মসলার ব্যবসা করে ধনী হওয়া ইব্রাহীম শ্রীলঙ্কার গত প্রেসিডেন্টের সময়ে দেশসেবার জন্য সম্মাননা পেয়েছিলেন। হামলার ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার পুলিশ ইব্রাহীমকেও গ্রেপ্তার করেছে।
মনিরুল বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে হামলার কোনো আশঙ্কা নেই, হুমকি দিয়েছে এমন তথ্যও নেই।”
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিদের মনোবল ‘ভেঙে দেওয়া হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার হামলা থেকে বাংলাদেশের জঙ্গিদের কেউ ‘অনুপ্রাণিত হতে পারে’ মন্তব্য করে মনিরুল বলছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় সজাগ রয়েছে।

শেয়ার