সাতক্ষীরায় খাল খননে দুর্নীতির অভিযোগে স্কেভেটর মেশিন আটকে দিলো গ্রামবাসী

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরা খাল খননের নামে হরিলুট করে পালিয়ে যাবার সময় খনন মেশিন আটকে দিয়েছে গ্রামবাসী। তারা নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খনন না করা পর্যন্ত এই মেশিন সরাতে না করে দিয়েছেন। এলাকার চেয়ারম্যান জানান খননে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এ জন্য গ্রামের লোকজন তাদের খনন মেশিন আটকে দিয়েছেন। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি প্রকৌশলী বলেন ‘খনন কাজের সময় এখনও রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি খনন কাজ পুরোপুরি শেষ করাতে’।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বিএডিসি বৃহত্তর খুলনা যশোর জেলার ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নে দুই কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। বাগেরহাটের মোল্লারহাট এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আকাশ এন্টারপ্রাইজের ফিরোজ মোল্লা এই কাজের টেন্ডার পান। এরপরই তিনি কাজ শুরু করেন। নির্দেশ অনুযায়ী কাওনডাঙ্গা সেতু থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ বরাবর এই খাল খননের কথা। কার্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে খালের উপরে ৪০ ফুট, তলদেশে ১৪ ফুট এবং গড়ে পাঁচফুট গভীর করে খালটি খনন করতে হবে। গ্রামবাসী জানান, খনন শুরুর সময় খালে পানি ছিল। এখনও পানি রয়েছে। এই সুযোগ ব্যবহার করে নামমাত্র খনন দেখিয়ে ঠিকাদার এলাকা ত্যাগ করছিলেন। তারা বলেন পানি সেচ না করেই খালের দুই পাশ থেকে কিছুটা মাটি কেটে পাশেই ঢিবি দেয়া হয়েছে। এতে পুরোপুরি দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এতে খাল খননের প্রকৃত উদ্দেশ্য নস্যাৎ হয়ে গেছে।
বাঁশদহা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি কাজের শুরু দেখেছেন। আর এখন দেখছেন কাজের নামে ফাঁকি। তিনি বলেন যে খালে পানি থাকে সে খাল কিভাবে খনন হয়। তা ছাড়া যতোটা খনন করার কথা তা করা হয়নি। খুব বেশি হলে তিন লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তিনি নিজেই এর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি জানান কয়েকদিন আগে ঠিকাদারের লোকজন খনন কাজ শেষ দেখিয়ে স্কেভেটর মেশিন নিয়ে চলে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকার কৃষিজীবী লোকজন তাদের মেশিন আটকে দেন।
জানতে চাইলে প্রকল্পের উপসহকারি প্রকৌশলী চিন্ময় চক্রবর্তী জানান ‘কাজের সময় শেষ হবে জুন মাসে। এখনও হাতে সময় আছে। আমি চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করাতে’।

শেয়ার