যশোরে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার রেললাইন এলাকায় শুক্রবার ৫ বছরের এক শিশু ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এই সংবাদের পর অভিযুক্ত যুবক শফিকুল ইসলাম বাবুর (২৫) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে শনিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। অবশ্য ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও গতকাল রাতে বাবুকে ঝিনাইদহ তার নানা বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত সমীর কুন্ডু।
অভিযুক্ত বাবু ওই এলাকার শহিদুল ইসলাম শহিদের ছেলে। সে পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। এই ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করছেন। শিশুটি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। আদালত তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করেছেন।
ওই শিশুর মা জানিয়েছেন, তিনি ধর্মতলা এলাকার রেললাইনের পাশের হাবিবের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাবু বাড়ির মালিক হাবিবের ভাগ্নে। তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করেন। গত শুক্রবার তিনি সাংসারিক কাজ করছিলেন। বিকেলে তার মেয়ে প্রতিবেশী এক শিশুর সাথে খেলা দেখছিল। এ সময় বাবু চকলেট ও কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়েকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে সময় তার মেয়ে চিৎকার দিলে তাকে ছেড়ে দেয় বাবু। ওই মেয়েটি তার ঘরে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তাকে জানায়।
ওই শিশুর মা আরো জানিয়েছেন, ঘটনা শোনার পর তিনি বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানান। এই ঘটনায় বিচারের দাবি করলে এলাকার একটি পক্ষ কালক্ষেপণ করে এবং বাবুকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়। তারা মিছিল করে অভিযুক্ত বাবুর বিচারের দাবি জানায়।
সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমির কুমার সরকারসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন। এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। ঘটনার পর বাবু এলাকা ছেড়ে নানা বাড়ি ঝিনাইদহে আশ্রয় নেন। সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গেপ্তার করে।
এই মামালার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই খবির হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই শিশুটি শনিবার দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দিন হুসাইনের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। বিচার ওই শিশুর সাক্ষ্য ২২ ধারায় রেকর্ড করেছে। এসআই খবির হোসেন বলেছেন, মামলার বিবরণে যা আছে তাই আদালতকে জানিয়েছে ওই শিশু।

শেয়ার