ইউপি সদস্য শাহজাহান গাজীর সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে জীবনশংকায় ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের সাতমাইল বাজার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী গাজী ও তার ছেলে আনোয়ার হোসেন গাজীর দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় জীবনশংকায় দিন পার করছেন একই এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। এব্যাপারে তিনি শুক্রবার কোতোয়ালি মডেল থাকায় একটি জিডি করেছেন। ভুক্তভোগী সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের উত্তর ললিতাদাহ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। একই দিন সন্ত্রাসী আনোয়ার গাজী ও তার বাবা শাহজাহান গাজীর বিরুদ্ধে আরো দুইটি জিডি করেছেন সাতমাইল বাজারের ব্যবসায়ী সাজেদুল হাসান মিন্টু ও সাদ্দাম হোসেন। সাজেদুল হাসান মিন্টু যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাদ্দাম হোসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।
আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন হাটে গরুর ব্যবসা করেন। এজন্য গত ২০ এপ্রিল শাহজাহান আলী গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজী তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে গিয়ে অস্ত্রের মুখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তারা ব্যবসা করতে দিবে না বলে হুমকি দেয়। এখন তিনি নানামুখি শংঙ্কায় রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
একই দিন সাজেদুল হাসান মিন্টু ও সাদ্দাম হোসেনের করা জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিজের ফেসবুকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করেছেন আনোয়ার গাজী। এতে তাদের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে শাহজাহান গাজীর সন্ত্রাসী বাহিনী ভবিষ্যতে তাদের ব্যবসায়ের ক্ষতি করতে পারে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যায়, শুধু সন্ত্রাসী কর্মকা- নয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য হওয়ার সুবাদে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন শাহজাহান আলী গাজী। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদানেও অর্থবাণিজ্য করেন। এজন্য তার নির্ধারিত টাকা দিলে ৬০ বছর না হলেও তিনি ভাতার কার্ড পাইয়ে দেন। তেমনই কয়েকজন হৈবতপুর ইউনিয়নের তীরেরহাট গ্রামের মোসলেম মোল্যা (৫৬), জাহানারা বেগম (৪৬), মথুরাপুর গ্রামের জহুরা খাতুন (৪৬), শাহিদা বেগম (৫০), সোনাভান বেগম (৫৬), শর বানু (৫৮), মশিয়ার রহমান গাজী (৫৬), রোস্তম মোল্যা (৫৩), নাসির মোল্যা (৫৯), আয়ুব হোসেন (৫৯), আব্দুল ওয়াদুদ (৫৬), বড় হৈবতপুর গ্রামের আবু তাহেরসহ (৪৯) বিভিন্ন মানুষকে তিনি টাকার বিনিময়ে বয়স্কভাতার কার্ড দিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃতরা।

শেয়ার