গণফোরামের কাউন্সিল মঞ্চে কামালের পাশেই মোকাব্বির

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া মোকাব্বির খান গণফোরামের কাউন্সিলের মঞ্চে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
ক্ষোভে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক বলেছেন, “মোকাব্বির খান ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে গেলে বলে গেট আউট, আর বাসায় গেলে বলে সংসদে যাও। এ ধরনের দ্বৈত নীতির দলে আমি থাকব না। এই আচরণে আমি ব্যথিত। এই দল আর আমি করব না।” শুক্রবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন যখন সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় জনগণকে পাহারাদারের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চেই ছিলেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য মোকাব্বির।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বিরই গণফোরামের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত প্রথম এবং একমাত্র সংসদ সদস্য।
গত ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পায় ঐক্যফ্রন্টের বড় দল বিএনপি। আর গণফোরামের দুটি মিলিয়ে জোটের আসন হয় আটটি।
নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে জোটের পক্ষ থেকে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ শপথ নিয়ে সংসদে যান।
এরপর গণফোরাম সুলতার মনসুরকে বহিষ্কার করে। আর প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানকে গত ২৪ এপ্রিল কারণদর্শাও নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
শপথ নেওয়ার পর মোকাব্বির দাবি করেছিলেন, তিনি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই শপথ নিয়েছেন। কিন্তু পরে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন তাকে নিজের কার্যালয় থেকে বের করে দেন।
কামাল সেদিন মোকাব্বিরকে বলেছিলেন, “আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট। আমার চেম্বার ও অফিস আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।”
দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়া মোকাব্বির খান শুক্রবার মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলের মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন। গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে বেলা পৌনে ১১টায় কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল শুরু হয় খদলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। তার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন মোকাব্বির খান।
অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রথম সারিতে সভাপতি কামাল হোসেনের আসনের তিন চেয়ারের পরেই মোকাব্বির খান বসেন। তার ডান পাশে ছিলেন রেজা কিবরিয়া, আর বাঁয়ে অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ।
প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে দল ছাড়ার কথা বলেন।
মোকাব্বিরের মঞ্চে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “মোকাব্বির খান যখন শপথ নিতে যান তখন দলে দুই ধরনের মত ছিল। পরে বলা হয়েছে কার্যনির্বাহী সভায় যা সিদ্ধান্ত হবে তাই সবাই মেনে নেবে। ২০ তারিখের কার্যনির্বাহী সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে মোকাব্বির খানকে শোকজ করা হবে। আজকে ২৬ তারিখ, এখনও শোকজ করা হয়নি। আর আজকেরটা তো দেখেছেনই।”
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি জানি ও শুনেছি ঘটনা। হাউজে অনেক বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করেছেন। এটা সভাপতি বলতে পারবেন কেন তিনি (মোকাব্বির) গেলেন, কীভাবে গেলেন। তাকেই জিজ্ঞাসা করুন।”
বিশেষ কাউন্সিলে মোকাব্বির খানের উপস্থিতি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মন্টু বলেন, “এটা অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক কাজ হয়েছে। এটা জাতির সাথে প্রতারণা হয়ে গেছে। আমি এ রকম সম্মেলনে যাব না।”

শেয়ার