শরণখোলায় জেলে পরিবারের ওপর হামলা ॥ মামলা হলেও আটক নেই

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক জেলে পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এসময় ওই পরিবারের এক নিকট আত্মীয়সহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে আহতরা পুলিশের সহায়তায় শরণখোলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে ভর্তি হয়।
সম্প্রতি উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা জেলে মোতালেবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে, জেলে মোতালেবের স্ত্রী তাসলিমা বেগম হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩জনকে আসামি করে গত ১৯ এপ্রিল শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল বিকেলে জেলে মোতালেব বাড়িতে না থাকার সুযোগে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী প্রভাবশালী আফজাল মৃধার নেতৃত্বে আবুল কালাম ও তার ভাই আলী হোসেন মোতালেবের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের পরিচালিত একটি মহিলা মাদ্রাসায় জোর পূর্বক প্রবেশ করে অশ্লীল গালমন্দ শুরু করে। এতে তাসলিমার ভাতিজা হাফেজ মোঃ মাহবুব হোসেন (২২) প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে আফজাল। ওই সময় তার বোন মাহমুদা (২১) মাহবুবকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে একই দিন সন্ধ্যায় শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মোতালেব ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, ২০১৩ সাল থেকে এলাকার বয়স্ক মহিলাদের কোরআনসহ দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার জন্য তার বাড়িতে মাদ্রাসাটি স্থাপন করা হয়। এতে প্রতিপক্ষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন সময় মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার মেয়ে ও ভাতিজাকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পেতে তার স্ত্রী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

শেয়ার