যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

পরীক্ষামূলক চালুর সাতদিনের মাথায় লক নতুন কালার আল্ট্রাসনো মেশিন

এস হাসমী সাজু
যশোর জেনারেল হাসপাতালে নতুন সংযোজন হওয়া থ্রি-ডি কালার আল্ট্রাসনো মেশিন পরীক্ষামূলক চালুর সাতদিনের মাথায় লক হয়ে গেছে। তবে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রিন্টারের কালি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেডিওলজিস্ট টেকনিশিয়ান মৃত্যুঞ্জয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র মতে, যশোরবাসীর জন্য স্বল্প খরচে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল এক্স-রে, কালার আল্ট্রাসনো মেশিনসহ বিভিন্ন আধুনিক মেশিনের জন্য আবেদন করেন। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতালের জন্য প্রিন্টারসহ একটি কালার আল্ট্রাসনো মেশিন, এক্স-রেসহ বিভিন্ন উন্নতমানের মেশিন অনুমোদন দেন। এই মেশিনগুলো ২৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। পরে মার্চের প্রথম সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট আল্ট্রাসনো রুমে এই কালার মেশিনটি সংযোজন করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ রোগীদের কথা বিবেচনা করে ১৬মার্চ থেকে মেশিন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেন। মেশিনটি চালুর পর থেকে হাসপাতালে আগত রোগীরা অনেক স্বল্প মূল্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার, ইকোকার্ডিওগ্রাম, হোল এ্যাবডোমেলসহ ৪/৫টি গুরুত্বপূর্ণ রোগের পরীক্ষা করার সুবিধা পাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৩ মার্চ ডিজিটাল আল্ট্রাসনো মেশিনটি কর্তাদের অদক্ষতায় প্রোগ্রাম লক হয়ে যায়। ফলে মেশিনটি অকেজো হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পড়ে রয়েছে। যে কারণে বর্তমানে রোগীরা ডিজিটাল আল্ট্রাসনো পরীক্ষার সুবিধা পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য যে, গত ২০১৮ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু টিক্কা নামে দাতা সংস্থা থেকে একটি থ্রি-ডি ডিজিটাল কালার আল্ট্রাসনো মেশিন রোগীদের জন্য হাসপাতালে অনুদান হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কালার প্রিন্টারের অনুমোদন না দেওয়ার কারণে সেই মেশিনটি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে মেশিনটি স্টোরে পড়ে থাকতে থাকতে নষ্টের পথে।
অভিযোগ রয়েছে,‘ক্লিনিক সিন্ডিকেটের কারণে আল্ট্রাসনো মেশিনটি পরীক্ষামূলক চালুর সাতদিনের মাথায় কৌশলে নষ্ট করা হয়েছে। ক্লিনিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারি হাসপাতাল থেকে কম খরচে সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এ ব্যাপারে হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট টেকনিশিয়ান মৃত্যুঞ্জয় বলেন, মেশিনটি মেরামতের জন্য ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার আগামী ৮ মে যশোরে আসবেন। তারা মেশিনটি ঠিক করলে আবার আগের মত রোগীরা হাসপাতাল থেকে ডিজিটাল পরীক্ষা করতে পারবেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, আল্ট্রাসনো মেশিন পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।