যশোরের রূপদিয়ার চাঞ্চল্যকর বাবুল গাজী হত্যাকাণ্ড
দুর্বল সাক্ষীর কারণে অভিযুক্ত ১২ আসামিই খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ১৯ বছর পর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের রূপদিয়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর বাবুল গাজী হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে এ মামলার অভিযুক্ত ১২ আসামিকেই খালাশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক (জেলা জজ) শেখ ফারুক হোসেন এ রায় দেন। নিহত বাবুল গাজী রূপদিয়া গ্রামের হোসেন আলী গাজীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন, শহরের শংকরপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে হারুন অর রশিদ, আনোয়ার হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন, একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে জাকির হোসেন, কফিল উদ্দিনের ছেলে মশিউল আলম, ইউসুফ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম ওরফে মরণ, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার কাওসারের ছেলে নাজমুল ইসলাম ওরফে মুক্তি, চোরমার দিঘীরপাড় এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে মেহেদী হাসান লিটু, হাসেম আলীর ছেলে ওহেদুজ্জামান টিপু, কামালপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন, বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফজলুর রহমানের ছেলে মশিয়ার রহমান ওরফে ইলিয়াস এবং মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের শামসুর রহমানের ছেলে নাসির উদ্দিন ওরফে নিপু।
স্পেশাল পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে আসামিদের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত কোন প্রমাণ স্বাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে আসেনি। ফলে আদালত অভিযুক্তদের খালাস প্রদান করেন।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২ ডিসেম্বর চাঁচড়ার রূপদিয়া গ্রামের বিলের পাশ থেকে মস্তক বিহীন উলঙ্গ অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় তৎকালীন কোতোয়ালি থানার এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানার এসআই আফজাল হোসেন, এস আই ফজলুর রহমান ও ইন্সপেক্টর সিএ হালিম তদন্ত করেন। পরবর্তীতে আবার মামলাটি এসআই সোহরাব হোসেন তদন্ত করেন। এরপর আবার সিআইডি কর্মকর্তা এমএ বারী মামলাটি তদন্ত করে ১২ জনসহ চাঁচড়া মোড় এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে ভগোকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা এলাকার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। নিহত বাবুল গাজী ও আসামিরা একই সাথে চলাফেরা করতো। এরমধ্যে বাবুল তাদের সঙ্গ ত্যাগ করাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা যোগ সাজসে বাবুলকে মাহিদিয়া মাঠে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার দেহ রূপদিয়া গ্রামের বিলে ও মাথা তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দেয়।
অভিযুক্ত আসামি হারুনকে আটকের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। এরপরে অভিযুক্ত আরেক আসামি মিজানুর রহমানের মৃত্যুর পর তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলা চলাকালে ১২ জন স্বাক্ষী তাদের বক্তব্য আদালতে পেশ করেন। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। ঘটনার ১৯ বছর পর এ রায়ে ১২ আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

শেয়ার