তাপপ্রবাহে দগ্ধ জনজীবন
উর্ধ্বমুখি ব্যারোমিটারের পারদ, যশোরে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সে.

সালমান হাসান রাজিব
রোদের খরতাপ বেড়ে চলেছে। তর তর করে ওপরে উঠছে ব্যারোমিটারের পারদ। দিনের বেলায় যেমন রোদের দাপট, রাতের বেলায় তেমন ভ্যাপসা গরম। সারা দেশে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় গরমের দাপট বেড়েছে। এমনকি এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরো বেশ কয়েকদিন অব্যাহত থাকার কথা বলছে আবহাওয়া অফিস। এমনকি তা ৩৮ ডিগ্রি পেরিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহের দিকেও যেতে পারে। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলাসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস মতে, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৮ ডিগ্রিতে উঠলে সেটা মৃদুতাপপ্রবাহ। উষ্ণতা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ অতিক্রম করলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ বিবেচনা করা হয়। গত দুই যুগে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। যেটি ছিল যশোরে।
বৈশাখ মাস পড়ার পর থেকেই যশোরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিনে বেড়ে চলা তাপমাত্রা এখন অসহনীয় হয়ে ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। বেলা একটু বাড়লেই সূর্য অগ্নিশর্মা হয়ে উঠছে। তেঁতে ওঠা রোদ বাইরে বের হলে ঘেয়ে-নেয়ে একাকার হতে হচ্ছে। খরতাপে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কখনো থেমে থেমে বাতাস বইছে। তাতেও স্বস্তি মিলছে না। বাতাসের সাথেও যেন আগুনের হল্কা বইছে। অব্যাহত তপ্ত রোদের থেকে রেহাই পেতে অনেকে ছাতা নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন। দিনের বেলায় দুপুরের দিকে রোদের তেজ সবচে বেশি থাকছে। যেকারণে প্রয়োজন ছাড়া এসময়টাতে মানুষজন ঘরের বাইরে কম বের হচ্ছেন।
এদিকে চলতি মৌসুমে আগাম রোপণ করা বোরো ধানের বেশির ভাগই ইতিমধ্যে পেকে গেছে। ফলে মাঠে ঘাটে ধান কাটা চলছে। চাঁদিফাঁটা রোদে কৃষক ও ক্ষেতমজুররা সেই ধান কেটে, আঁটি বেঁধে মাথায় করে বাড়িতে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচন্ড দাবদাহের কারণে তাদের কাজ করতে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে বললেন যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান। গতকাল দুপুরে চাঁচাড়ার হরিনার বিলের কালাবাগান এলাকায় দশজন ক্ষেত মজুর নিয়ে ধান কাটছিলেন তিনি। আলাপচারিতায় বলেন, এবার ৪ বিঘা জমিতে আগাম বোরে ধান লাগিয়েছি। বৈশাখ মাস চলছে। যেকোন সময় কালবৈশাখী আঘাত হানতে পারে। ঝড়ের কবলে পড়লে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য ক্ষেতের ধান দ্রুত কেটে ফেলার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রচন্ড গরমের কারণে ধান কাটার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভীষণ রোদের তাপ, সেই সাথে প্রচুর গরমে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে। ক্ষেত মজুররা একটু সময় কাজ করার পর গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরকম অবস্থা আরো বেশ কয়েক দিন স্থায়ী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোসাগরে লঘুচাপ বিরাজ করছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরো ঘনীভূত হয়ে নি¤œচাপে পরিণত হবার আশংকা রয়েছে।