চৌগাছার কপোতাক্ষ নদের ঝুঁকিপুর্ণ বেইলি ব্রিজ অপসারণ শুরু

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছা কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত ঝুঁকিপুর্ণ বেইলি ব্রিজটি অবশেষে খুলে ফেলা হচ্ছে। বুধবার সকালে ব্রিজ খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়। তবে এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদ পারাপারের সুবিধার্থে আশির দশকে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এই ব্রিজ নির্মাণের ফলে কপোতাক্ষ নদের পশ্চিমে বসবাসরত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। মাত্র তিনযুগ যেতে না যেতেই ব্রিজটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে উঠে। সে কারনে সাবেক আইসিটি মন্ত্রী মরহুম মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বেইলি ব্রিজের পাশেই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। নবনির্মিত সেতু ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হলে বেইলি ব্রিজের কদর বহুলাংশে কমে যায়। এদিকে বছরের পর বছর সংস্কার না করার কারনে বেইলি ব্রিজের উপর লোহার পাত উঠে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজস্ব অর্থে ব্রিজটি বেশ কয়েকবার সংস্কারও করেন। স্থানীয়রা জানান, নতুন নির্মিত সেতু সড়ক থেকে অনেক উচু হওয়ায় ওই সেতু ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই ঝুঁকি হলেও মানুষ বেইলি ব্রিজটি ব্যবহার করতেন। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়কেরও বেহালদশা, যার কারনে অনেকে সেতুটি ব্যবহার না করে বেইলি ব্রিজ ব্যবহার করতেন। এখন হঠাৎ করে এই ব্রিজ খুলে নেয়ায় মহাবিপাকে পড়েছেন অনেকে। বিশেষ করে ছোট খাটো যানবাহন, সাইকেল, ভ্যান রিক্্রা ও স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা অনেক সমস্যার সম্মুখিন হবেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। কারণ যত দেরিতে এটি সরানো হতো, ততই বিপদ বেশি ঘটতো বলে তারা মন্তব্য করেন। বেইলি ব্রিজ খুলে নেয়ার কাজে নিয়োজিত শেখ ফারুক হোসেন জানান, ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে ব্রিজ খুলতে। এরপর খুলে নেয়া সব কিছুই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তারা বুঝে দিবেন।
এদিকে ব্রিজ খুলে নেয়ার আগে নবনির্মিত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। সড়ক থেকে ব্রিজের উচ্চতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে।

শেয়ার