পাচারের শিকার ৬ রোহিঙ্গা শিশুকে পরিবারে হস্তান্তর

পাচারের শিকার হয়ে যশোরের বেনাপোল পুলিশের হাতে আটক ৬ রোহিঙ্গা শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের উখিয়া ১৯নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর কর্তৃপক্ষ এসব রোহিঙ্গা শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করে।
পাচারের শিকার হয়ে উদ্ধার হওয়ার পর রোহিঙ্গা ৬ ভিকটিমকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাইটস যশোর কর্তৃপক্ষ যশোরের শিশু আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত রোহিঙ্গা শিশুদের পরিবারে হস্তান্তরের লক্ষ্যে তাদেরকে রাইটস যশোর’র জিম্মায় দিয়ে গত ১৫ এপ্রিল এক আদেশ প্রদান করেন। এরপর রাইটস যশোর সকল দাপ্তরিক কার্য সম্পন্ন করে ২ মাস ২৫ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিমানযোগে শিশুদেরকে কক্সবাজারে নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবারে ফিরতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রোহিঙ্গা শিশুরা, পরিবারের সদস্যরাও শিশুদেরকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। হস্তান্তরকালে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সারা সাদিয়া ইসরাত, সেভ দ্য চিলড্রেন’র প্রমি বর্সিয়া, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির হানিফ মাহমুদ, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন’র আব্দুর রহিম, ব্র্যাক’র শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ পুলিশের এএসআই ফয়সাল হোসেন, ক্যাম্প ইনচার্জের প্রতিনিধি সিপিপি মোহাম্মদ রশিদ, রাইটস যশোর’র নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, ডিরেক্টর প্রোগ্রাম এসএম তোফাজ্জেল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝিরা (সভাপতি) উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি যশোরের বেনাপোল বর্ডার এলাকা থেকে মঞ্জুরুল ইসলাম নামক এক পাচারকারীকে আটক ও পাচারের শিকার ৬ রোহিঙ্গা ভিকটিমকে উদ্ধার করেন বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে সংগ্রহ করে বেশী বেতনে ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে বাংলাদেশী পরিচয়ে পাসপোর্ট করার মাধ্যমে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিলো। থানা পুলিশের সন্দেহ হলে পাচারকারীকে আটক করে ৬ ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। পরে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ এ ঘটনায় ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৭/৮ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৫২, তাং-২৯/০১/১৯, জিআর-৫২/১৯) রুজু করেন এবং উদ্ধারকৃত ৬ রোহিঙ্গা শিশুকে যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। আদালত মামলার ভিকটিমদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করে ভিকটিম হাফেজা খাতুন (১৭), সকিলা আক্তার (১৬), আজিজ তারা (১৭), ইয়াসমিন আক্তার (১৭), সানজিদা আক্তারকে (১৫) ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ঠিকানা শেল্টার হোমে এবং মো. নোমানকে (১৭) যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আদেশ দেন এবং আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার