সাতক্ষীরায় পটল চাষে ভাগ্য বদল

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরার পটল চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষী। এই পটল চাষ করে কৃষকের ভাগ্য বদল হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। এবছর পটলের দাম অন্য বারের চেয়ে অনেক বেশি। তবে কৃষকদের অভিযোগ উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করছেন না। তাদের সহযোগিতা পেলে গাছের রোগ বালাই কমতো, আরো ফলন বেশি হতো। সাতক্ষীরার পটল যাচ্ছে খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ।
জানাযায়, সাতক্ষীরায় ১২ মাস পটল চাষ হয়। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কাালিগঞ্জ উপজেলা পটল চাষে সমৃদ্ধ। সবচেয়ে বেশি পটল চাষ হয়েছে সাতক্ষীরা সদরে। সাতক্ষীরার পটল যাচ্ছে খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে। কৃষকরা বলছেন, ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি বাজারে পটল বিক্রি হচ্ছে। আর এই পটল খুচরা বাজারে মানুষ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে ক্রয় করছেন। কৃষকদের দাবি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত ওয়ালার চেয়ে বেশি মুনফা ভোগ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যখন যে টাকায় কিনি তখন সামান্য লাভ রেখে কিছু বেশি টাকায় বিক্রি করি।
এদিকে বর্ষার কারণে এবার ক্ষেতে একটু বেশি রোগ দেখা দিয়েছে। এজন্য কৃষক বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ব্যবহার করছেন। কৃষকের অভিযোগ, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা তাদের কোন সহযোগিতা করলে রোগ বাইলাই থেকে পটল রক্ষা সহজ হতো। তাহলে ফলনও বেশি হত। কৃষক একদিন পরপর ক্ষেত থেকে পটল তোলেন। সবমিলে এবার পটল চাষ করে কৃষক বেশ লাভবান হয়েছেন। কৃষক ব্যবসায়ী, দিনমজুর সবার মুখে হাসি ফুটেছে ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুই গাছা গ্রামের মিজানুর, তবিবর, মোশারাফ, ইসমাইলসহ একাধিক কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে পটল চাষ আবাদ করতে ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ফলন ভাল হলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। পটল চাষে পরিশ্রম করতে হয় বেশি। প্রতিদিন সকালে উঠে ফুলেন পরাগায়ন করাতে হয়। স্থানীয় ভাবে পরাগায়ন ঘটানোকে ফুল ছোয়ানো বলা হয়। একদিন পর পর ক্ষেত থেকে পটল উত্তোলন করা যায়। কেউ পটলের ক্ষেতে দিনমজুরির কাজ করছেন, কেউ পটল কিনে হাট বাজারে বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ পটল কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলে পটল চাষে ভাগ্য বদল হচ্ছে অনেকের ।
পটল চাষী জিয়াউর, তরিকুল, আহাদ, জামায়াত জানান, এবার বর্ষার কারণে গাছে একটু রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরণের ঔষধ ব্যবহার করছি। অনেকের গাছ মারা যাচ্ছে। তবে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাদের কোন সহযোগিতা করছে না। কৃষকরা আরো বলেন, কৃষি অফিস চাষীদের সহযোগিতা করলে গাছের রোগ বালাই দুর হতো। তাদের পটলের ফলন বেশি হলে লাভ আরো বেশি হত।
এদিকে এই তথ্য সংগ্রহ করার সময় সদর উপজেলার বাশদহা ইউনিয়নের এক উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে কৃষকদের এসব কথা না লেখার জন্য অনুরোধ করেন।
ঢাকার কারওয়ান বাজারের পটলের আড়তদার মোস্তফা জানান, তিনি সাতক্ষীরায় এসেছেন পটল কিনতে। এখানকার অনেক ব্যবসায়ী তার আড়তে পটল বিক্রি করেন। তার দাবি ক্ষেতওয়ালা ও আড়তদারদের চেয়ে খুজরা বিক্রেতারা বেশি লাভ করে। এবার পটলের দাম ভাল। সাতক্ষীরার পটল খুব সুসাধু।
সাতক্ষীরা কষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, পটল আবাদ করে চাষী লাভবান হয়েছেন। পটল চাষে সাতক্ষীরা জেলা সমৃদ্ধ। জেলায় ৬০৫ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে । পটলের সাথে অনেক সাথী ফসলেরর চাষ হয়।

শেয়ার