শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত যারা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর শোকের সাগরে ভাসছে শ্রীলঙ্কা। রোববারের সিরিজ বোমা হামলা কেড়ে নিয়েছে ২৯০ জনের প্রাণ।
শ্রীলঙ্কানদের পাশাপাশি ৩২ বিদেশি হামলায় নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, ডেনমার্ক, বাংলাদেশ, চীনসহ আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আছেন।
হামলার পর গুজব রোধে শ্রীলঙ্কা সরকার দেশটিতে ফেইসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে হতাহতদের সম্পর্কে তেমন তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। বিবিসি হামলায় নিহত কয়েকজনের পরিচয় জানতে পেরেছে।

শান্তা মায়াদুন্নে:
শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় শেফ শান্তা মায়াদুন্নে। হামলার পর রোববার রাতে যে অল্প কয়েকজন নিহতের পরিচয় জানা গেছে তাদের একজন শান্তা।
শাংরি লা হোটেলে হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তার মেয়ে নিসানগা মায়াদুন্নে নিজের ফেইসবুক একাউন্টে একটি পারিবারিক ছবি পোস্ট করেছিলেন। যেখানে একটি টেবিলের চারপাশে বসে সাত জনকে হাসিমুখে খাবার খেতে এবং ছবির জন্য পোজ দিতে দেখা যায়।
পরে মানিক মায়াদুন্নে নামে তাদের এক স্বজন ওই ছবিটি ফেইসবুকে পোস্ট করে শান্তা ও নিসানগার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

ডেনিশ ধনকুবেরের তিন সন্তান:
অনলাইন খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এএসওএস’র সবচেয়ে বড় অংশীদার এবং ক্লথিং চেইন ‘বেস্টসেলার’ এর মালিক ডেনমার্কের ধনকুবের অ্যান্ডারস হচ পভ্লসেনের তিন সন্তান শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় মারা গেছেন।
তার এক মুখপাত্র বিবিসিকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেননি। শোকের এ সময়ে পভ্লসেন পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাতে অনুরোধও করেছেন তিনি।
ডেনিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পভ্লসেন পরিবার ছুটি কাটাতে শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলেন।
চারদিন আগে তাদের এক সন্তান ইনস্টাগ্রামে শ্রীলঙ্কায় ছুটি কাটানোর একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন।
রাসিনা: ভারতের কেরালা রাজ্যের রাসিনা (যাকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রাজিনা বলা হয়েছে) স্বামীর সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করেন। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এ দম্পতি কলম্বো গিয়েছিলেন।
রোববার সকালে রাসিনার স্বামী দুবাই চলে যান। ৫৮ বছরের রাসিনার রাতের ফ্লাইটে কলম্বো ছাড়ার কথা ছিল। শাংরি লা হোটেল থেকে তিনি চেক-আউটও করেছিলেন। পরে তার এক স্বজন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

ভারতের দুই রাজনীতিক:
নিহতদের মধ্যে ভারতের কর্নাটকের দল জনতা দল পার্টির (জেডিপি) দুই সদস্য কে জি হনুমানথারাইয়াপ্পা ও এম রণগাপ্পা রয়েছেন।
এক টুইটে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে দুই রাজনীতিককে চিনতেন।

আরো তিন ভারতীয়:
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আরো তিন ভারতীয়র মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন: লক্ষ্মী, নারায়ণ চন্দ্রশেখর ও রমেশ। নাম ছাড়া তাদের সম্পর্কে আর কিছু এখনো জানানো হয়নি।

তুরস্কের দুই প্রকৌশলী:
নিহতদের মধ্যে তুরস্কের দুই নাগরিক আছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলু।
তাদের মধ্যে প্রকৌশলী সেরহান সেকুক নারিচি ২০১৭ সালের মার্চ থেকে কলম্বোতে বসবাস করছেন, তার ফেইসবুক প্রফাইল সেই কথা বলছে।
সেরহান তড়িৎ প্রকৌশলী ছিলেন বলে জানান তার বাবা। যিনি শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসেও কাজ করেছেন।
তার বাবা বলেন, “আজ ভোর ৫টায় সে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে শুভ সকাল জানিয়েছে। আমাকে বলা এটাই তার শেষ কথা।” নিহত ইজিত আলি কাভুসও একজন প্রকৌশলী।

এক পরিবারের দুই অস্ট্রেলীয়:
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তার দেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
তারা একই পরিবারের এবং বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় বসবাস করছিলেন। এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য তিনি দেননি।
বাংলাদেশের রাজনীতিক শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি:
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি আট বছরের জায়ান চৌধুরী হামলায় নিহত হয়েছে।

শিশুটির বাবা হামলায় আহত হয়েছেন। জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাংসদ শেখ সেলিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই।

সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের চার কর্মী:
পাঁচ তারকা এ হোটেলের পক্ষ থেকে হামলায় তাদের রেস্তোরাঁর চার কর্মী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
হোটেলের মুখপাত্র বলেন, “ব্যস্ত সকাল ছিল। রোববার সকালে রেস্তোরাঁয় বুফে ব্রেকফাস্ট চলার সময় আমরা সবচেয়ে ব্যস্ত থাকি।”

শ্রীলঙ্কায় গির্জা-হোটেলে হামলা আত্মঘাতী ছিল
সাত আত্মঘাতী হামলাকারী শ্রীলঙ্কার তিনটি হোটেল ও তিনটি গির্জায় হামলা চালায় বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা।
তাদের মধ্যে দুইজন কলম্বোর অভিজাত শাংরি লা হোটেলে হামলা চালান। বাকিরা তিনটি গির্জা ও দুইটি হোটেলে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানান ফরেনসিক ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরিয়ানন্দ উইলিয়াংয়া।

শাংরি লা হোটেল ও কিংসবুরি হোটেল এবং সেইন্ট অ্যান্থনির চার্চ ও সেইন্ট সেবাস্টিয়ান ক্যাথলিক চার্চে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে একযোগে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

৫ মিনিট পর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের রেস্তোরাঁয় এবং ২০ মিনিট পর বাত্তিকালোয়ার জিয়ন রোমান ক্যাথলিক চার্চে একই ভাবে আত্মাঘাতী বোমা হামলা হয়।

তবে দুপুরের দিকে চতুর্থ হোটেল ও একটি বাড়িতে বোমা হামলা আত্মঘাতী ছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উইলিয়াংয়া বলেন, “এখনো তদন্ত চলছে।”

২০ মিনিটে ছয় জায়গায় হামলার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর ওই দুই হামলা হয়।

আরো হামলা হতে পারে আশঙ্কায় তারপর দেশ জুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা সরকার।

সোমবার সকালে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। যদিও পরে আবার রাজধানী কলম্বোতে সোমবার রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়।

এখন পর্যন্ত রোববারের বোমা হামলাগুলোর দায় কেউ স্বীকার করেনি। দেশজুড়ে পুলিশি অভিযান চলছে।

হামলার দিন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সিঙ্গাপুরে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরেছেন এবং সোমবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বলে জানান এক কর্মকর্তা।

রোববারের হামলা বিশেষ করে গির্জায় ইস্টার সানডের পরবে প্রার্থনারত মানুষের উপর হামলা শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিতে পারে আশঙ্কায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
রোববার রাতে একটি মসজিদ পেট্রোল বোমা হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে মুলমান মালিক এমন দুইটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
হামলার পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জরি করা হয়। সোমবার সকালে ওই কারফিউ তুলে নেওয়া হলেও কলম্বোর সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা। ভারী অস্ত্রহাতে সেনা সদস্যরা দেশটির অভিজাত হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে পাহারা দিচ্ছে। কারফিউ তুলে নেওয়ার পর অনেক পর্যটক শ্রীলঙ্কা ছাড়তে বিমানবন্দরে ভীড় করেছে।

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি
ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে গির্জা আর পাঁচ তারা হোটেলে একযোগে বোমা হামলায় ২৯০ জনের মৃত্যুর পর শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাত থেকে পুরো শ্রীলঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ইউনিট এক বিবৃতিতে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তেই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জরুরি অবস্থা জারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর ফলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করার অনেক বেশি ক্ষমতা পাবে। তবে এক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে ওই বিবৃতিতে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী কলম্বোতে টানা দ্বিতীয় রাতের মত কারফিউ জারি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সোমবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে।
রোববার সকাল ও দুপুরে দুই দফায় তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলসহ আট জায়গায় ওই বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত ২৪ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
গত বছর একটি বৌদ্ধমূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার উগ্রপন্থি মুসলিমদের সংগঠন ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতের নাম খবরে এসেছিল।
শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজিথা সেনারতেœ বলেছেন, রোববারের হামলার পেছনে ‘ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াত’ নামে শ্রীলঙ্কার একটি উগ্রপন্থি মুসলিম সংগঠন রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। গত বছর একটি বৌদ্ধমূর্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতের নাম প্রথমবারের মত খবরে এসেছিল।
তবে কেবল স্থানীয় কোনো দলের পক্ষে এত ব্যাপক মাত্রায় সমন্বিত হামলা চালনো সম্ভব বলে মনে করেন না রাজিথা সেনারতেœ। তার বিশ্বাস, কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এর পেছনে রয়েছে ।
প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার অফিস বলেছে, শ্রীলঙ্কায় যে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী গ্রুপের সহায়তায় হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে দুই সপ্তাহ আগেই সতর্ক করেছিল একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। তাই তদন্তের ক্ষেত্রে বিদেশি সরকারগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে হামলায় অংশ নেয় মোট সাতজন আত্মঘাতী হামলাকারী। এর মধ্যে শাংরি-লা হোটেলে দুইজন হামলাকারী নিজেদের উড়িয়ে দেয়।
সকালের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর কলম্বোর আরও একটি হোটেল এবং একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে ওই দুটো ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর থেকে চলা অভিযানের মধ্যে কলম্বোর প্রধান বাস টার্মিনাল এলাকায় ৮৭টি বোমার ডেটোনেটর পেয়েছে পুলিশ। কলম্বোর বন্দরনায়েকে বিমানবন্দরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পাইপ বোমা।
এছাড়া দিয়াতালাভার কাহাগোলা এলাকা থেকে চায়নিজ অ্যাসল্ট রাইফেরের ১৫২টি গুলি এবং নাইন এমএম বোরের গুলির আটটি ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই গির্জাও রোববারের হামলায় আক্রান্ত হয়, হতাহত হয় বহু মানুষ।

২০ মিনিটেই মৃত্যুপুরী শ্রীলঙ্কা
একের পর এক বিস্ফোরণে শ্রীলঙ্কার গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলো কেঁপে উঠছে। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তিনটি হোটেল ও তিনটি গির্জায় ভয়াবহ বোমা হামলা ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটিকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে।
রোববার শ্রীলঙ্কায় মোট আট জায়গায় বোমার বিস্ফোরণ হয়। যেগুলোর বেশিরভাগই আত্মঘাতী হামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীলঙ্কায় ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি কেউ।

সময়ের হিসাবে একের পর এক ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো:
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট: রাজধানী কলম্বোর শাংরি লা হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট: কলম্বোর কোতাহেনা কোচিকাডের সেইন্ট অ্যান্থনির চার্চে বোমা বিস্ফোরণ
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট: নেগাম্বোর কাটুয়াপিতিয়ার সেইন্ট সেবাস্টিয়ান ক্যাথলিক চার্চে বোমা বিস্ফোরণ
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট: কলম্বোর কিংসবুরি হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ
সকাল ৮টা ৫০ মিনিট: কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণ
সকাল ৯টা ০৫ মিনিট: বাত্তিকালোয়ার জিয়ন রোমান ক্যাথলিক চার্চে বিস্ফোরণ
১১ টা ৩০ মিনিটে: প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জরুরি নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করেন
১১টা ৪০ মিনিট: সরকার দেশজুড়ে দুই দিনের জন্য সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে
১২টা ১৫ মিনিট: প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান
দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট: আবারও বোমা বিস্ফোরণ। এবার দেহিওয়ালার জাতীয় চিড়িয়াখানার কাছে নিউ ট্রপিকাল ইন হোটেলে। যা ছিল দিনের সপ্তম বোমা বিস্ফোরণ।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিট: কলম্বোর দিমাটাগোদায় একটি বাড়িতে পুলিশি অভিযান চলার সময় বিস্ফোরণ। দিনের অষ্টম এই বিস্ফোরণে তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
দুপুর ২টা ২০ মিনিট: দেহিওয়ালার জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়
দুপুর ২টা ৩০ মিনিট: সরকার ফেইসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ম্যাসেজ আদানপ্রদানের সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়।
দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট: সরকার দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে।
বিকাল ৪টা: সব গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট: সব বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।
বিকাল ৫টা: প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে মন্ত্রিসভার সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন।
বিকাল ৫টা ২০ মিনিট: বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০৭ হয়েছে বলে জানায় পুলিশ, আহত ৪৫০।
সন্ধ্যা ৭টা: পুলিশ বিস্ফোরক বহনকারী একটি ভ্যান খুঁজে পায়।
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট: পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে হামলায় ৩২ বিদেশি নাগরিক নিহত এবং ৩০ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়।
রাত ৮টা ৫০: সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কেন গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে তা খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর তদন্তের নির্দেশ।
রাত ৯টা ৩০ মিনিট: সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত সন্দেহে ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
রাত ১০টা ৩০ মিনিট: একটি মসজিদে পেট্রোল বোমা মারা হয়। এছাড়া দেশের দুই প্রান্তে মুসলমান মালিকের দুইটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়।

মসজিদে হামলা
শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলসহ আট জায়গায় প্রাণঘাতী বোমা হামলার পর মসজিদে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুসলিম মালিকানাধীন দু’টি দোকানেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার (২১ এপ্রিল) রাতে এসব ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, রোববার ইস্টার সানডেতে চার গির্জা, তিন হোটেল ও এক বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হন ২৯০ জন। আহত হন পাঁচ শতাধিক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার