মাঠের ময়লা পরিস্কার না করায় প্রধান শিক্ষকের হাতে স্কুলছাত্র জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মাঠের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে না চাওয়ায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছেন প্রধান শিক্ষক নবিরুল ইসলাম। এসময় আরো কয়েকজনকেও মারপিট করা হলে এক পর্যায়ে ১৫/১৬ জন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করে। গত শনিবার ২০ এপ্রিল সদর উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
তবে এ ঘটনাটি তেমন কিছু নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নবিরুল ইসলাম।
জঙ্গলবাঁধাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানিক কুমার দাসের অভিযোগ, গত শনিবার সকালে প্রধান শিক্ষক ১৫/২০জন ছাত্রকে ডেকে নিয়ে স্কুলের মাঠের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে বলেন। সে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে মারপিট করে। এক পর্যায় একজন শিক্ষার্থী পা কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া আরো কয়েকজনকে মারপিট করেন ওই প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনা দেখে স্কুলের অন্য ছাত্ররা ভয়ে স্কুল ছেড়ে বাইরে চলে যায়। স্কুলের বাইরের আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি অভহিত করে বিচার দাবি করে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নবিরুল ইসলাম বলেছেন, শনিবার মাঠের কিছু ময়লা পরিস্কার করার জন্য ৪/৫জন ছেলেকে ডেকেছিলাম। সবাই আমার সাথে কাজ করছিল। কিন্তু কাজের ফাঁকে মানিক নামে ওই ছেলে আমাকে কিছু না বলে স্কুলের বাইরে দোকানে চলে যায়। পরে তাকে ডেকে নিয়ে শাসিয়ে দিই। ২/৩টি থাপ্পড় মারি অসভ্য আচারণের জন্য। এর বেশি কিছু নয়। এ বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার কিছু লোকজন নানাভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে বলে তিনি দাবি করেন। মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। সকলেই স্কুলে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এব্যাপারে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ইব্রাহিম হোসেন বলেছেন, মাঠ পরিস্কারের জন্য কোন শিক্ষার্থীকে প্রহার করা যাবে না। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

শেয়ার