মণিরামপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলা শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৪জনের নামে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের রহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে দেবর, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মণিরামপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম এনামুলক হক যশোর আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলো, চালুয়াহাটি গ্রামের আব্দুল করিম ফকির ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম, ছেলে রাসেল ফকির এবং শ্যামকুড় গ্রামের মৃত জিতু মোড়লের ছেলে মোক্তার হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালে আসামি আব্দুল করিম ফকিরের বড় ছেলে রাশেদ হোসেন একই গ্রামের ছবেদ মোড়লের মেয়ে রহিমা খাতুনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের একটি পুত্র সন্তান হওয়ার স্বামী রাশেদ কাজের সন্ধানে বিদেশে চলে যায়। পুত্র সন্তান নিয়ে রহিমা তার শ্বশুর বাড়ি থেকে যায়। কয়েক মাস যেতে না যেতে রহিমার দেবর রাসেল ফকিরের কুদৃষ্টি পড়ে তার উপর। রাসেল তার সাথে জোর করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে রহিমাকে পিতার বাড়িতে রেখে আসে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রহিমা শ্বশুর বাড়ি ফিরে এসে রাসেলকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে রহিমাকে মারপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মুখে কীটনাশক ঢেলে আত্মহত্যা কারেছে বলে লোকজনকে জানায়। পরদিন পুলিশ কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ নিয়ে ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এব্যাপারে রহিমার পিতা ছবেদ মোড়ল বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে গত বছরের ১৮ জুন মণিরামপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। তদন্ত শেষে স্বাক্ষীদের দেয়া বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৪জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্ত সকল আসামি জামিন আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার