বিশ্বকাপে বোলিংয়ে ভালো করতে ওয়ালশের মন্ত্র

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতা থেকে কোর্টনি ওয়ালশ অনুমান করতে পারছেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কী পরীক্ষা তার শিষ্যদের সামনে অপেক্ষা করছে। বুঝতে পারছেন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মাশরাফি বিন মুর্তজা-রুবেল হোসেনদের। তাই বৈচিত্র্য আর পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর বাড়তি জোর দিচ্ছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ।

ইংল্যান্ডের উইকেট বাংলাদেশের বোলারদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং উইকেটের একটি। এখানে খেলা ১৮ ম্যাচের কোনোটিতেই তারা কেউ নিতে পারেনি চার বা পাঁচ উইকেট। সেরা মোসাদ্দেক হোসেনের ৩/১৩! ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সেরা উইকেট শিকারী মাশরাফি। তারও গড় ৫২.৪০।
রুবেল হোসেনের গড় পঞ্চাশের উপরে। সাকিব আল হাসানের গড় আশি ছুঁইছুঁই। মুস্তাফিজুর রহমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চার ম্যাচে ১৮৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন কেবল একটি উইকেট।
বিশ্বকাপের জন্য ওয়ালশ সাজাতে চান নতুন পরিকল্পনা। আলাদা উইকেটের জন্য এবার থাকবে তার আলাদা কৌশল।

“বিশ্বকাপ অনেক দীর্ঘ টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। সেখানে কিছু ভালো উইকেট থাকবে যেগুলো ব্যাটিং সহায়ক হবে। আমাদের কৌশলী হতে হবে এবং যথাযথভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে। এখনকার দিনে সবাই অন্যকে নিয়ে গবেষণা করে। তাই ওরা আমাদের শক্তি ও দুর্বলতা জানে। একইভাবে আমরাও ওদেরটা জানি।
“আমরা যে কন্ডিশন আর যে উইকেটে খেলব তা ঠিকভাবে পড়তে পারতে হবে। কোথাও অন্য জায়গার চেয়ে বল বেশি সুইং করতে পারে। সেখানে যাওয়ার পর আমাদের পরিস্থিতি দেখতে হবে। বেশিরভাগ উইকেট হয়তো ফ্ল্যাট হবে। আমাদের নিজেদের বৈচিত্র্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করতে হবে।”
ইংল্যান্ডে নতুন বলের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহারের দিকে বাড়তি জোর দিচ্ছেন ওয়ালশ। শুরুতে উইকেট নিতে নতুন বলে চান উজাড় করে দেওয়া বোলিং।
“বৈচিত্র্য, কৌশলী চিন্তা আর বাস্তবায়ন হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যাই আপনার শক্তি হোক না কেন সেটায় আস্থা রাখতে হবে। ব্যাটিং দলকে চাপে রাখতে ও রান রেট বেঁধে রাখতে শুরুতেই আপনাকে উইকেট নিতে হবে। যখন আমরা সেরা একাদশ জানবো তখনই আমরা ওদের শক্তির জায়গা নিয়ে মনোযোগ দেব।”
একেক বোলারের জন্য উইকেট অনুযায়ী একেকটা পরিকল্পনা ঠিক করতে চান বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ।
“ইংল্যান্ডের উইকেট সাধারণভাবে ফ্ল্যাট। আমাদের সেখানে বৈচিত্র্য ব্যবহার করতে হবে। ধারাববাহিক হতে হবে। আমাদের যে ধরনের বোলার আছে দেখতে হবে সেখানে কোন পরিকল্পনা সবচেয়ে কার্যকরী। সম্ভবত সেখানে বড় রানের ম্যাচ হবে। আমার মনে হয়, যে দল বোলিংয়ে ভালো করবে ওরাই জিতবে।”
ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতায় পূর্ণ ওয়ালশ। সেই সময়ের উইকেট আর এই সময়ের উইকেটের পার্থক্য খুব সহজেই ধরা পড়েছে তার চোখে।
“আমি যখন খেলেছিলাম তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। কিছুটা বোলিং সহায়ক ছিল। সে সময় সিম একটু বেশি ছিল। উইকেটগুলো এখন ভালো ব্যাটিং ট্র্যাকে পরিণত হয়েছে। এখন বড় রানের ম্যাচ হয়। তাই আপনাকে আপনার বৈচিত্র্য নিয়ে অনুশীলন করতে হবে।”

“আপনাকে নিজের বলের গতি কমানোটা জানতে হবে, আঁটসাঁট বোলিং করতে হবে। ব্যাটসম্যানের চেয়ে চিন্তায় এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করতে হবে। ওয়াইড ইয়র্কার, স্টাম্প বরাবর বোলিং, স্লোয়ার বাউন্সার এই ধরনের যা কিছু পারেন সব কিছুই হয়তো আপনার ব্যবহার করতে হবে। আমার মনে হয় আয়ারল্যান্ডের ক্যাম্পে এটাই থাকবে আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে।”

শেয়ার