নড়াইলে ১৯০ স্কুলে সিলেবাস ছাড়াই পরীক্ষা শুরু, ক্ষোভ

নড়াইল প্রতিনিধি॥ নড়াইল সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে আজ (মঙ্গলবার) থেকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষার একদিন আগে সোমবার উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে সিলেবাস ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানো দেয়া হয়েছে! অভিযোগে বলা হয়েছে আজ থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হলেও কোন শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছায়নি সিলেবাস। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল ২২ এপ্রিল (সোমবার) শবেবরাতের বন্ধের দিনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে সিলেবাস ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন নিতে এসে ভিড় করেছিলেন শতাধিক স্কুলের শিক্ষকরা। সেখানে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষকের সাথে। শিক্ষকরা জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পাঠ পরীকল্পনা (সিলেবাস) অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠদান করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও চুড়ান্ত পরীক্ষার জন্য সিলেবাস তৈরি করা হয়ে থাকে। এবছর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ২৩ এপ্রিল (আজ) থেকে শুরু তাই তো পরীক্ষার আগের দিনে সরকারি ছুটির দিনেও সকাল থেকে উপজেলা জেলা শিক্ষা অফিসে ভিড় করছিলেন শিক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ১’শ ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্টার গার্ডেন রয়েছে ১৫টি। এসব বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় ২১ হাজার এবং কিন্টারগার্ডেন গুলোতে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কাছে ১৬ হাজার সিলেবাস বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, সোমবার সকাল থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সরকারি ছুটির দিনে বিদ্যালয়ের সিলেবাস এবং পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকরা এসে দাঁড়িয়ে আছেন সিলেবাস ও প্রশ্ন নেয়ার জন্য।
শিক্ষার্থী ফারহাদ, সুমন, সিমা আক্তার জানান, প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও এখনও তারা কোন সিলেবাস পায়নি। বইয়ের কোন জায়গা থেকে প্রশ্ন আসবে তাদের কোন ধারণা নেই। এতে তাদের পড়াশোনার খুব ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্র্থী আসমা খাতুন জানায়, খুব টেনশনে আছি। সিলেবাস না পাওয়ায় ভাল করে পড়তে পারিনি। শিক্ষার্থীদের দাবি বছরের শুরু থেকেই তাদেরকে সিলেবাস বিতরণ করা উচিত।
অভিভাবক তামান্না রহমান ও শারমিন লাকী জানান, বিদ্যালয় গুলোতে সিলেবাস দেয়ার কথা বছরের শুরুতে যা দেখে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করবে। বছরের ৪ মাস চলে যাচ্ছে মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা এই সিলেবাস নিয়ে শিক্ষার্থীরা কবে পড়বে ? আর কি পরীক্ষা দিবে?
শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, গতরাতে পবিত্র শবেবরাতের রাতে অধিকাংশ শিক্ষক ইবাদত করে শরীর ক্লান্ত কেউ বা রোজা রাখছেন অথচ আজকের দিনেই কেন এসব দিতে হবে পূর্বেও তো দেয়া যেত।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদুল করিম বলেন, বিভিন্ন সময়ে সিলেবাসের পরিবর্তন হয়ে থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে দেয়া যায়নি। গত রোববার আমাদের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত কুমার পাল পরীক্ষার সিলেবাস দিতে একটু দেরি হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, প্রথম সাময়িকে কোন জায়গা থেকে কোন পর্যন্ত আসবে, সেটি পূর্বেই বিদ্যালয় গুলোতে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর সিলেবাস তো সারাবছরের জন্য, সামনে আরও দুইটি পরীক্ষা রয়েছে।

শেয়ার