যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননার প্রতিবাদকারী আট ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী ছবি এবং নৌকা প্রতীক অবমাননার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামা আট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শনিবার রিজেন্ট বোর্ডের ৫৪তম বৈঠক থেকে তিনজনকে আজীবন ও পাঁচজনকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই বহিস্কার দাবি করা হলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তদন্ত কমিটি তাদের বক্তব্য না শুনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা যায়, যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে থাকা একটি নৌকা প্রতীক ভেঙে ফেলা ও ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবনামনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সেই আন্দোলনের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। পরে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ৪ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের আটজনকে বহিস্কার করা হয়।
তবে যবিপ্রবি থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনের স্থাপিত র‌্যাগিং বিরোধী পোস্টার ও নোটিশ ছিড়ে ফেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর প্রতি অবমাননা ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় যবিপ্রবির তিন শিক্ষার্থীকে আজীবন ও পাঁচজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। যবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের ৫৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী একরামুল কবির দ্বীপ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা এবং ক্যাম্পাসে থাকা নৌকা প্রতীক অপসারণের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অন্যায়ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তিনিসহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হুমায়রা আজমিরা এরিন ও রোকনুজ্জামানকে আজীবন বহিস্কার করেছে প্রশাসন। এছাড়া আন্দোলনে থাকা শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী আসিফ আল মাহমুদ, মোতাসসিন বিল্লাহ, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের মাহমুদুল হাসান শাকিব, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনীম ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হারুন অর রশীদকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।
আজীবন বহিস্কার হওয়া রোকনুজ্জামান দাবি করেন, তারা শুনেছেন তদন্ত কমিটি হয়েছিলো। কিন্তু কমিটি তাদের কোন বক্তব্য শোনেনি। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানহানির প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

শেয়ার