যশোরের গৃহবধূ রিপা হত্যাকাণ্ড খুনিরা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি স্বামী-শাশুড়ি পালাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের গৃহবধূ রিপার হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী ইমরান ও তার মা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকুমার কুন্ডু।
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে যশোর সদর উপজেলার সরদার বাগডাঙ্গার একটি বাওড়ের ধান ক্ষেত থেকে রিপা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন জড়িত বলে এলাকাবাসী ধারণা করলেও পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ঘটনার ৫দিন গড়ালেও খুনে জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি।
এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, সদর উপজেলার সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের তক্কেল সরদারের ছেলে ইমরান হোসেন পেশায় ট্রাক চালক। ১০ বছর আগে ঝিকরগাছা উপজেলার বিষেহরি গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে রিপা খাতুনকে বিয়ে করেন ইমরান। প্রায় দুই বছর হলো রিপার সাথে সম্পর্কের অবনতি ছিল ইমরানের। সে কারণে এক বছর আগে ইমরান পাশের গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে রিপার জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। দ্বিতীয় স্ত্রীর এবং ইমরানের মা রিজিয়া বেগম সুন্দরীর কু-পরামর্শে দিনে দিনে রিপার উপরে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন ইমরান। পাশাপাশি তাকে খুন করার জন্য পরিকল্পনা শুরু করে। বিষয়টি রিপা তার পিতা-মাতাকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েও দিতেন। এক পর্যায় গত ৭ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রিপাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে হত্যার পরে লাশটি একই গ্রামের বাওড়ে আজিজুল ইসলামের ধান ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেয়। কিন্তু সেইদিনই মোবাইলে মেয়েকে না পেয়ে রিপার পিতা ইমরানের বাড়িতে আসেন। এসময় ইমরানের মা রিজিয়া বেগম সুন্দরী জানান, রিপা রাগ করে গতকাল বাড়ি থেকে কোথায় যেন চলে গেছে। আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যান ইমরান ও তার মা রিজিয়া বেগম। পরদিন ৮ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে রিপার চাচাতো বোন সুমি খাতুন রিপার পিতাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। এরপর সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সুকুমার কুন্ডু ধান ক্ষেত থেকে রিপার লাশ উদ্ধার করেন। আর রিপার পিতা মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামাই ইমরান হোসেন ও তার মা রিজিয়া বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩জনকে আসামি করা হয়েছে।
যদিও ঘটনার ৫দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ হত্যাকা-ের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যার কারণ ও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, রিপা খুনের কারণ ও খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SHARE