নরওয়েতে পানির নিচে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নরওয়েতে ডুবো রেস্তোরাঁনরওয়েতে আছে হরেক রকমের মুগ্ধতা। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ‘আন্ডার’। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ডুবো রেস্তোরাঁ। শুধু তাই নয়, ইউরোপে পানির নিচে সুস্বাদু খাবারের বাণিজ্যিক দোকান এটাই প্রথম।

নরওয়ের ভাষায় ‘আন্ডার’ অর্থ ‘ওয়ান্ডার’। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চল ব্যালিতে উত্তর সাগরের নিচে ৪৯৫ বর্গমিটার জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ডুবো রেস্তোরাঁ। সামুদ্রিক পরিবেশ দেখার জন্য এতে আছে সুবিশাল জানালা। ফলে জলপৃষ্ঠের আট মিটার নিচে ভোজনরসিকরা অনেকটা অ্যাকুরিয়ামে বসে খাওয়ার স্বাদ পাবেন। কাচের জানালার সুবাদে দিনে পানির নিচের স্বাভাবিক সবুজাভ আলো ফুটে থাকবে রেস্তোরাঁয়।
নরওয়েতে ডুবো রেস্তোরাঁমেন্যুতে থাকছে ১৮ পদ। স্থানীয় ও সামুদ্রিক খাবারই মূলত পাওয়া যাবে এই রেস্তোরাঁয়। এছাড়া ওয়াইন আর জুস তো আছেই। জনপ্রতি খরচ পড়বে ৪৩০ মার্কিন ডলার (৩৬ হাজার টাকা)। এতে একসঙ্গে ৪০ জনের বসার জায়গা আছে।
নরওয়েতে ডুবো রেস্তোরাঁ‘আন্ডার’ ডিজাইন করেছে নরওয়ে ভিত্তিক স্থাপত্য সংস্থা স্নোহেট্টা। উদ্ভাবনী স্থাপত্যের ক্ষেত্রে তাদের সুনাম দুনিয়াজোড়া। অসলোর অপেরা হাউস ও নিউ ইয়র্কের ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ইলেভেন মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের নকশা তারাই করেছে।

নরওয়েতে ডুবো রেস্তোরাঁরেস্তোরাঁটির আকৃতি বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, কোনও ভবনের একভাগ কাত হয়ে ডুবে আছে। এর দেয়াল ডিজাইনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে স্নোহেট্টা। এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াটল থ্রেইডল থোরসেন নিশ্চিত করেছেন, জলের তোড়েও যেন স্বাভাবিক থাকতে সক্ষম হয় তাই যথেষ্ট পুরু রাখা হয়েছে দেয়াল। বাইরের অংশ দেখতে রুক্ষ। এর চারপাশের প্রবালপ্রাচীর জলজ উদ্ভিদসহ চারপাশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নরওয়েতে ডুবো রেস্তোরাঁদুই ভাইয়ের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁটির ভাবনা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে গ্যঁট উবোস্টাড রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, এখানে বছরে ১২ হাজার অতিথি খেতে আসবেন। তাদের মধ্যে অর্ধেক কাছেই আমাদের হোটেলে উঠবেন।’

SHARE