শালিখায় সামাজিক দ্বন্ধে দু’টি গ্রামের ৫০ পরিবার ঘরছাড়া

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ মাগুরার শালিখা উপজেলার গজদূর্বা ও সর্বসাংদা গ্রামে সামাজিকতার বিরোধিতায় ৯ বছরে দুই গ্র“পের ৩ জন খুন হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে অন্তত ৩০ জন, আহত হয়েছে ৫০০ জন, ৩০০ ঘরবাড়ীতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঐ সকল ঘটনায় ক্ষতির পরিমান অন্তত: ২০০ কোটি টাকা। এসব ঘটনায় বিবাদমান দুটি গ্র“পের পক্ষে বিপক্ষে শতাধিক মামলা হয়েছে। যার মধ্যে চালু রয়েছে অন্তত ২০/২৫টি। একটি গ্র“পের নেতৃত্ব দেন ধনেশ্বরগাতী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা। তিনি কয়েক দফা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একজন পঙ্গু মানুষ।
অপর গ্র“পের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের মোক্তার মন্ডল। গ্রামের সাধারণ মানুষ মামলায় পড়ে অনেক সময় সামাজিক দল পরিবর্তন করেন, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। গত ৯ বছর ধরে চলমান এসব ঘটনায় অন্তত শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে। কোন কোন বাড়ীতে এক থেকে দুই জন বৃদ্ধ/বৃদ্ধা বসবাস করছে। প্রায় ৫০টি পরিবারের জমি কয়েক বছর ধরে পতিত পড়ে আছে। কোন কোন পতিত বাড়ী দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় জঙ্গলে পরিনত হয়ে চামচিকা আর পশুপাখির আবাসস্থলে পরিনত হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কমপক্ষে শতাধিক বাড়ী চেখে পড়ে যার ঘরের চাল, জানালা দরজা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । স্বাভাবিক ভাবে মনে হবে যেন এটি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত গ্রাম। ঘটনার সুত্রপাত ২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারী গজদূর্বা গ্রামের আনছুর হত্যার মধ্যে দিয়ে। যার মামলা নং ১৫৬/১১। এর পর ২০১৭ সালে মেহেদী হাসান কে হত্যা করা হয়। মামলা নং ১৮৫/১৭। ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারী আব্দুর রশিদকে হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা নং ৪/১৯। সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা ইউপি সদস্য দাউদকে পথিমধ্যে মোটর সাইকেল ঠেকিয়ে সন্ত্রাসীরা তার একটি পা সম্পূর্ন কেটে ফেলে দেয়। এই সকল মামলায় জর্জরিত হয়ে গ্রামবাসী যেমন অর্থনৈতিক ভাবে সর্বশান্তহয়ে পড়েছে তেমনি তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াও বন্ধের পথে। এদিকে গত কয়েকদিন আগে বাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় গজদূর্বা গ্রামের ফিরোজ শেখের স্ত্রী পাপিয়া বেগম ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মাগুরা দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা দিয়েছেন। যার নং ২০/১৯। মামলার বাদী পাপিয়া বেগম জানান কতিপয় লোকজন তার বাড়ীর ছাদ ভাংচুর ও ঘরের দরজা জানালা খুলে নিয়েছে। কিন্তু কোর্টে মামলা করলেও এই ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রতিপক্ষরা মানতে চায় না। গ্রামের অপর একজন মাতুব্বার কালীবাড়ী বাজার কমিটির সভাপতি মেদাচ্ছের মন্ডল জানান ১৯৭২ সালে চাদ আলী হত্যা মামলার সময় থেকে এ এলাকায় দিনের পর দিন খুন জখম লুটপাট সহ নানা রকম অঘটন ঘটে চলেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের গ্রাম দুটি বসবাসের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে গ্রামে শান্তপরিবেশ ফিরে আসুক এমনটাই দাবি এলাকাবাসির।

SHARE