মাগুরায় অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরায় শপিং কমপ্লেক্সে ও বহুতল ভবন গুলো সাজসজ্জায় আধুনিক হলেও ভবনগুলোর অধিকাংশের নেই অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ঠিকই নিয়ে রেখেছে এসব প্রতিষ্ঠান মালিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাগুরার প্রায় সব আবাসিক ভবন, এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে রয়েছে অগ্নি ঝুঁকি। একবার আগুন লাগলে তা ছড়িয়ে আশপাশের অনেক কিছুই পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। বেশিরভাগ বহুতল ভবনেরই আছে অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র কিন্তু নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ মানুষের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ভবনে অগ্নি নিরাপত্তার কিছু বিধিমালা নির্ধারণ করে দিলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই ভবনগুলোতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কোন ভবন নির্মাণ করা হয়, তখন এই অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টির গুরুত্ব আমলে নেয়া হয় না। এটা আমাদের প্র্যাকটিসের সমস্যা। সচেতনতা না থাকার সমস্যা। কোন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যতক্ষণ না কারও জীবনে ঘটছে, তার আগ পর্যন্ত কেউ সচেতন ভূমিকা রাখছেন না।
মাগুরা জেলার গত ১০ বছরে সর্বত্র উচু ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সেই সঙ্গে পুরানো ভবনগুলোয় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করায় যেকোনো মুহুর্তে মাগুরায় এসব ভবনে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। এসব বহুতল ভবনগুলো নির্মিত হচ্ছে আবাসন ব্যবসায়ীদের দ্বারা।
ভবন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত নিয়ম মেনেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ জানান, জনবল সংঙ্কটের কারণে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ তদারকি করা যাচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র মতে, অগ্নিনির্বাপণ আইন অনুসারে আগুনের ঝুঁকি এড়াতে যে কোন ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকার কথা। তাছাড়া ছাদে ওঠার সিঁড়ি একের অধিক, ছাদের দরজা খোলা রাখা, বাইরে বের হওয়ার একাধিক দরজা রাখার ব্যবস্থা করতে হয়। বাণিজ্যিক ভবনে সিড়ি হবে ৬ ফিট চওড়া এবং আবাসিক ভবনে ৪ ফিটের মত। ভবনের সামনে থাকবে কমপক্ষে ৩০-৪০ ফিট ফাকা জায়গা এবং বহুতল ভবনে সংরক্ষিত থাকবে কমপক্ষে ৩ হাজার লিটার পানি।
কিন্তু এই আইন কেউ মানছে না। সূত্র আরো জানায়, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ১০ তলার ওপর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে ওই ভবনে আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার পাম্পসহ আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হয়। মাগুরায় বেশির ভাগ ভবনই কোনো রকম নিয়ম না মেনেই করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ছয় তলার অধিক উচু ভবন সাধারণত হাইরাইজ ভবন হিসেবে চিহ্নিত। অধিকাংশ উচু ভবনই জেলা সদরে অবস্থিত। প্রতিটি উচু ভবন নির্মাণের পূর্বে স্থানীয় পৌরসভার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ থেকেও অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেও ভবন নির্মাণের পর অগ্নিনির্বাপক কোন ব্যবস্থা রাখা হয় না। প্রতিটি হাইরাইজ ভবন নির্মাণের পূর্বে ভবন মালিকদের দুর্ঘটনা এড়ানোর প্রস্তুতির নির্দেশ থাকলেও মালিক পক্ষের এদিকে যেমন খেয়াল নেই, অগ্নিনির্বাপক বাহিনীও বারবার তাগাদা দিয়েও সফল হচ্ছে না।
মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ ৪ তলা পর্যন্ত উচু ভবনে অগ্নি নির্বাপনের সরঞ্জাম আছে। এর উপরে উচু ভবনে আগুন নিভানোর প্রযুক্তি তাদের নেই। কিন্তু প্রায়ই স্থানীয় ফায়ার কর্তৃপক্ষ উচু ভবন নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছে ভবন র্নিমাণের মালিকদের। সরেজমিনে ঘুরে পাওয়া তথ্যে আরো জানা যায়, শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে যেভাবে উচু ভবন নির্মিত হচ্ছে, দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে কখনো আগুন লাগলে এসব ভবনের কাছে পৌঁছতেও দমকল বাহিনীর মই বা পানিবাহী গাড়িগুলোকে অসুবিধার মুখে পড়তে হবে। শহরের দোয়ারপাড়ার মোড়, কেশবমোড়, নতুন বাজার ভূমি অফিস সংলগ্ন, সদর হাসপাতালপাড়া, কলেজপাড়া, জজকোর্টপাড়া, পুলিশ লাইন, সৈয়দ আতর আলী রোড প্রভৃতি এলাকায় রয়েছে এমন বহু সংখ্যক বাড়ি। এ প্রসঙ্গে মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার সুমন আলী মিয়া বলেন, শপিং মার্কেটগুলোর অবস্থা ও ভয়াবহ। আগুন নির্বাপক যন্ত্র নেই, পানি নেই, নেই ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। কোথাও আগুন লাগলে নিজস্ব ফাইটাররা যাতে ফায়ার সার্ভিস আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে ওই ব্যবস্থাও শপিং মার্কেটগুলোয় নেই। মাগুরায় প্রায় মার্কেটের জেনারেটর, বিদ্যুতের সাবস্টেশন সব এক জায়গায় করা হয়েছে।
মাগুরা পৌরসভার প্রকৌশলী (স্থাপনা) সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভায় ভবন নির্মাণে অনুমতি দেয়া হয় ১১টি কমিটির ছাড়পত্র যাচাই বাছাই করে। অগ্নিঝুঁকি বিবেচনা করা হয়। মুলত অধিকাংশ ভবন অনুমতিতে যে নকশা অনুমোদন করা হয়, বাস্তবে নকশা পরিবর্তন করা হয়। যা নিয়মবর্হিভূত। জনবল সঙ্কটের কারণে বহুতল ভবন নির্মাণে অগ্নি ঝুঁকি তাই তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।

SHARE