যশোরে ৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৬৯১ কেন্দ্রের ৩৭৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চতুর্থধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যশোরের সাত উপজেলায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে আজ। এ সাতটি উপজেলার ৬৯১টির মধ্যে ৩৭৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১২ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকছে। এদিন র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)ও টহল দেবে। এছাড়া ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
যশোর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানা গেছে. জেলার ৬৯১টি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১২ হাজার (মোট ১১ হাজার ৭৬৩ জন) সদস্য নিযুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ আছে ২ হাজার ৮শ’ ৪৩ জন, র‌্যাবের ১৪টি মোবাইলে টিমে ১৫০জন সদস্য, বিজিবির ২৪ প্লাটুনে ৪৫১ জন সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপির থাকবে ৮ হাজার ৩৬৪ জন। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ ও সাদা পোশাকের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। সাথে রিজার্ভ ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ৭ উপজেলায় ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে। কোন রকম অনিয়ম হলে সাথে সাথে তাকে আটক করে সাজা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যেই স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছেন।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আল মামুন সরকার জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে গেছেন। কেন্দ্রে বা আশেপাশে কোন প্রকার অনিয়ম হলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জরুরি প্রয়োজনে জনসাধারণ প্রত্যেক থানার ওসির সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
তিনি আরো বলেছেন, সকল কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৬৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৭টি কেন্দ্র বিশেষ নজরে থাকবে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম যাতে না হয় যে জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সর্তক থাকবে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) আনছার উদ্দিন বলেছেন, জেলার সাতটি উপজেলার পরিষদের নির্বাচনই সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। এজন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। যেকোন প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ পুলিশের শরণাপন্ন হতে পারবে।
এ দিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গ্রহণে ৬৯১টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারসহ মোট ১৬ হাজার ১১১জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, যশোর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। সংরক্ষিত মহিলা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। আর শার্শা উপজেলায় তিনটি পদেই একক প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে না।

শেয়ার