নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের জন্য প্রস্তুত যশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আজ যশোরের সাত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে জেলার দুই সংসদ সদস্যকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। একই সাথে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচন সুষ্টু ও নিরপেক্ষ করতে সব কিছু করবেন তারা।
জেলার দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর বেশ কয়েকটি উপজেলা থেকে অভিযোগ পায় প্রশাসন। কেশবপুর উপজেলার নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম আমির হোসেন একাধিকবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নৌকার বিপক্ষে ভোট করতে দলীয় নেতাকর্মীদের চাপ দিচ্ছিলেন। এব্যাপারে তিনি প্রেসক্লাব যশোরেও একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করেন। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জামদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি অমান্য করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদেরও অবহিত করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়কে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ঝিকরগাছা ও চৌগাছার সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিনকে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করণীয় সবকিছু করেছে নির্বাচন কমিশন এমনটাই দাবি প্রশাসনের।
এদিকে, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি বা ২০ দলীয় জোট থেকে থেকে কেউ নির্বাচন না করলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কারণ শুধুমাত্র শার্শা ছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় ভোট হচ্ছে। আর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়া প্রতিটি উপজেলা নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোন কোন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইয়ের অধিক প্রার্থী রয়েছেন। সবমিলে সাত উপজেলায় ভোটের মাঠে আছেন ৮৪ জন প্রার্থী। সংগত কারণে উপজেলায় চলছে ভোটের আমেজ। প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হুসাইন শওকত বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা করণীয় সবকিছু আমরা করেছি। ভোটের মাঠে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা মেনে নেয়া হবে না। যে কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ফোর্স আমাদের প্রস্তুত আছে।
তাই সব মিলিয়ে আজ অবাধ, নিরপেক্ষ এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেয়ার