চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট আজ

স্নায়ুচাপে যশোরের ৮৪ প্রার্থী তবু বিজয়ের আশাবাদ সবার

সালমান হাসান রাজিব
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে যশোরে আজ সাতটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটা থেকে বিরতিহীন বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে স্বস্ব উপজেলার মানুষ তাদের পছন্দের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেছে নেবেন। এবারের সাত উপজেলার এই নির্বাচনে তিনটি পদে ৮৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিশ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আটত্রিশ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছাব্বিশ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে ভোট গতকাল শনিবার সাত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িদত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সিল, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, কালিসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভোট গ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোন ধরণের অবনতি না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় আইন প্রযোগকারী সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় রয়েছে। এদিন গতকাল সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানোর সুযোগ শেষ হবার পর ভিন্ন কৌশলে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রচার চালিয়েছে। প্রার্থী ও তারে সমর্থকরা ব্যক্তিগতভাবে পাড়া মহল্লার ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ভোটাররা যাতে দলবেঁধে ভোট দিতে যায় সে ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছে। অনেক প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটরা নাম্বারের স্লিপ পৌঁছে দিয়েছেন। এদিকে জয়ের ব্যপারে সব প্রার্থীরাই জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চেয়ারম্যান পদের ভোট দলীয় প্রতীকে হলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে এসব পদের প্রার্থীরা বিজয়ের ব্যাপারে তুলনামুলক বেশি ¯œায়ু চাপে রয়েছে। কারণ এই দুটি পদে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাররা দল মতের উর্ধ্বে থেকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও তার কর্মকা-ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে এক্ষেত্রে জনবিছিন্ন প্রার্থীরা বিজয়ের ব্যাপারে বেশ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এলাকার মানুষের পাশে সব সময় থাকেন। বিভিন্ন সমস্যায় যারা এগিয়ে আসেন ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাদের নির্বাচিত করার ব্যাপারে ভোটাররা জোর দিচ্ছেন। আর চেয়ারম্যান নির্বাচনের ব্যাপারে দল মনোনীত প্রার্থী ও জনবান্ধন নেতাদের দিকে ভোটারদের নজর রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি হন দু’জন প্রার্থী। এই দু’জন প্রার্থীর মধ্যে একজন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহামুদ বিপুল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। এদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেতারা খাতুন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর নূর জাহান ইসলাম নীরা।
কেশবপুর
এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিন জন। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী মনোনীত এইচএম আমীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান। উপজেলাটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন কবির হোসেন, আব্দুল লতিফ রানা, পলাশ কুমার মল্লিক, হাবিবুর রহমান, সাইদুর রহমান গাজী ও এস এম মাহাবুবুর রহমান। এই উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন দু’জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাসিমা আক্তার সাদেক হাঁস ও রাবেয়া খাতুন নির্বাচন করছেন।
মণিরামপুর
এখানে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিন জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা খানম, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসেম আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক সন্দীপ কুমার ঘোষ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম কুমার চক্রবর্তী ও মিকাইল হোসেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। মণিরামপুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিন জন। উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রীতা পাঁড়ে ও উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি কাজী জলি আক্তার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসমাতুন্নাহার নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
অভয়নগর
উপজেলাটিতে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিন অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। আব্দুর রউফ মোল্যা, আক্তারুজ্জামান তারু, বিপুল শেখ, আব্দুল মান্নান, হুমায়ুন কবির মধু ও আতিয়ার রহমান বাবু ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। এদিকে এই উপজেলাটিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন জন প্রার্থী হয়েছেন। বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা বেগম ও মিনারা পারভীন ও ডা. সাফিয়া খানম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।
বাঘারপাড়া
এই উপজেলাটিতে চেয়ারম্যান পদে ছয় জন নির্বাচন করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জামদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল, ইসলামী ঐক্যজোটের মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আলি জিন্নাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর রশিদ স্বপন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রউফ, মাজিদুল ইসলাম, রাকিব হাসান শাওন, শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ফয়সাল আহমেদ মিল্টন, গোলাম ছরোয়ার, নাজমুল হুসাইন, এনায়েত হোসেন লিটন ও জয়নাল আবেদীন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন বিথিকা বিশ্বাস, শরিফা খাতুন, জাকিয়া সুলতানা, শিরিন শবনম কবির ও দিলারা জামান।
চৌগাছা
এই উপজেলাটিতে চেয়ারম্যান পদে দু’জন প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তনিছুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, সিদ্দিকুর রহমান, আসাদুজ্জামান, আজাদ রহমান খান, সামছুর রহামান, শামীম রেজা বৈদ্যুতিক ও জসিম উদ্দিন ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আকলিমা খাতুন লাকী, কামরুন্নাহার শাহিন, রিপা ইসলাম, নাছিমা খাতুন ও নাজনীন নাহার।
ঝিকরগাছা
এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাথী বেগম ও ইসলামী ঐক্যজোটের হাবিবুর রহমান মিনার ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন তিন জন। তারা হলেন মাহমুদুল ইকরাম, সেলিম রেজা ও ইদ্রীস আলী বিশ্বাস। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন। লুবনা তাক্ষী, শিরিন জেসমিন মোছাম্মদ মঞ্জুন্নাহার নাজনিন, আমেনা খাতুন, তাজবিন সুলতানা, শাহানারা খাতুন ও নাহিদ আক্তার।