যশোরে সিভিল সার্জন ও চিকিৎসককে বাদ দিয়ে কলেজছাত্রী সোহানা খুন এজাহারভুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের লোনঅফিস পাড়ার কলেজছাত্রী সোহানা হত্যার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। মামলা থেকে সিভিল সার্জন ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের এক চিকিৎসককে বাদ দেয়া হয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি নিহত সোহানার মা শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে যশোর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর শুনানি শেষে গত ১১মার্চ এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদেশ দিয়েছিলেন।
ময়না তদন্তে তথ্য গোপনের অভিযোগে সিলিভ সার্জন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রভাষক, নিহতের পিতা, সৎ মাসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ করা হয়েছিল।
অভিযুক্তরা হলেন, শহরের লোন অফিসপাড়ার বাসিন্দা নিহতের পিতা সালাউদ্দীন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী নিহতের সৎ মা পরভীন খাতুন, একই এলাকার শেখ সিরাজ উদ্দীনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম এবং দুই ছেলে শেখ জালাল উদ্দিন ও শেখ জসিম উদ্দীন। বাদীর দায়ের করা অভিযোগ থেকে যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার দিলীপ কুমার ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডাক্তার বাবলু কিশোর বিশ্বাসকে বাদ দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, এ মামলার প্রধান আসামি নিহতের পিতা সালাউদ্দীনের সাথে শাহীনা আক্তারের প্রথমে বিয়ে হয়। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে ছাড়াছড়ি হয়ে যায়। তবে তাদের দাম্পত্য জীবনে সোহানা নামের মেয়েটির জন্ম হয়। কিন্তু পিতা-মাতার সম্পর্ক ছিন্নের পর মেয়ে সোহানাকে পিতা যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার বাসায় এনে রাখে। এরপর তার পিতা সালাউদ্দীন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সোহানা তাদের সংসারে ‘বোঝা হয়ে দাঁড়ায়’। সোহানা নানা বাড়ি মাগুরায় চলে যায়। পরে সালাউদ্দিন ও তার লোকজন মাগুরা থেকে সোহানাকে জোর পূর্বক যশোরে আনতে গিয়ে মারপিটে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মাগুরা থানায় দায়ের করা মামলাটি মাগুরা আদালতে বিচারধীন রয়েছে।
২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট সোহানা আত্মহত্যা করেছে বলে তার পিতা সালাউদ্দীন কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে সোহানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সোহানার গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও ময়নাতদন্ত রির্পোটে গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে থানা পুলিশ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে আদালতে অপমৃত্যু মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন মানতে পারেননি সোহানার মা শাহীনা আক্তার। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে সোহানাকে হত্যা ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের তথ্য গোপন করার অভিযোগ এনে ৩০ জানুয়ারি আদালতে একটি পিটিশন মামলা দাখিল করেন।
বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে থানায় আর কোন মামলা হয়েছে কিনা? হয়ে থাকলে তার অগ্রগতিসহ প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছিলেন কোতোয়ালি থানার ওসিকে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর শুনানি শেষে কোতোয়ালি থানার ওসিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন বিচারক।
এই আদেশ পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান গত শনিবার রাতে পিটিশনটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করেছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।

শেয়ার