কেশবপুরের অজ্ঞাত লাশটি পাটকেলঘাটার কবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের কেশবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের ধানক্ষেতে পাওয়া অজ্ঞাতনামা যুবক সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার সারসা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক এনামুল কবির। আটক জেসমিনের শিকারপুর গ্রামের মেহেদী হাসান মন্টুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক না রাখায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রোববার জেসমিন নাহার মুক্তা যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। জেসমিন নাহার মুক্তা শিকারপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
মুক্তা জানিয়েছেন, তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। প্রতিবেশী মন্টুর সাথে তার পরকীয়া ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মন্টু তার সাথে কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। এরপর জেসমিন পাটকেলঘাটার সারসা গ্রামের কবিরের সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কবির গত ৯ মার্চ রাতে জেসমিনের সাথে দেখা করতে আসে শ্বশুর বাড়িতে। এরইমধ্যে রাতে মন্টু ওই বাড়িতে এসে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। এ সময় মন্টু তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং ফোনে জেসমিনকে জানায় সামান্য মারপিট করে কবিরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরদিন সকলে বাড়ির পাশে আবুল বাশারের ধানক্ষেত থেকে করিরের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ সকালে শিকারপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে কেশবপুর থানা পুলিশ। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় অজ্ঞাতনামা যুবকের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার এসআই ফকির ফেরদৌস আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা হত্যার সাথে জড়িতে সন্দেহে জেসমিন নাহার মুক্তাকে আটক করে গতকাল রোববার আদালতে সোপর্দ করেন। মুক্তা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিতে ওই তথ্য জানিয়েছেন।

শেয়ার