মঙ্গলশোভাযাত্রার উপকরণ তৈরিতে নেমেছে যশোরের চারুশিল্পীরা
চারুপীঠের মুখোশ যাবে অস্ট্রেলিয়ায়

মঙ্গলশোভাযাত্রা

সালমান হাসান রাজিব
সবে চৈত্রের শুরু। বৈশাখের এখনো ঢের বাকি। তারপরও যশোরে চলছে বৈশাখ বরণের জোর প্রস্তুতি। পয়লা বোশেখের সকালে বের হয় মঙ্গলশোভাযাত্রা। হরেক রকমের শিল্প উপকরণে সজ্জিত হয়ে এই শোভাযাত্রা বের করে যশোরবাসী। এসব শৈল্পিক উপকরণের মধ্যে থাকে শোলা, বাঁশের চাঁচ, আর্ট পেপার ও রঙবেরঙের কাগজ দিয়ে তৈরি নানান প্রতিকৃতি। থাকে রকমারি মুখোশ। বাংলার অরণ্যের বাঘ, ভালুক, হাতি। নানান পাখপাখালি। বাঙলা সাহিত্যের কল্পকথার ভূত, প্রেত, পেতœী, রাক্ষসের প্রতিকৃতি।
মঙ্গলশোভাযাত্রার এসব শিল্প উপকরণ তৈরি করতে আঁটসাঁট বেঁধে নেমেছে যশোরের চারুশিল্পীরা। এতে পিছিয়ে নেই সাংস্কৃতিক কর্মীরাও। যশোরের চারুশিল্পীদের সংগঠন চারুপীঠ ও চারুতীর্থ। সংগঠন দুটি পয়লা বৈশাখের আগ পর্যন্ত মাস ব্যাপী মঙ্গলশোভাযাত্রার জন্য নানান শিল্প উপকরণ তৈরি করবে। গতকাল শুক্রবার চারুপীঠের মাসব্যাপী মুখোশ উৎসব শুরু হয়েছে। সংগঠনটির তৈরি হরেক রকমের মুখোশ এবার অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হবে। সেদেশে বসবাসকারী বাঙালিরা এবারকার পয়লা বোশেখে চারুপীঠের বানানো মুখোশ পরে মঙ্গলশোভাযাত্রা করবে।
এদিকে দিনকয়েক আগে মঙ্গলশোভাযাত্রার জন্য মুখোশ ও প্রতিকৃতি তৈরির মাসব্যাপী কর্মশালা আরম্ভ করেছে চারুতীর্থ। এতে শিশু ও কিশোররা মুখোশ ও প্রতিকৃতি বানানো শিখছে। শেখার পর তৈরি করছে রকমারি সব মুখোশ ও প্রতিকৃতি। কর্মশালায় শিশু-কিশোরদের তৈরি এসব মুখোশ ও প্রতিকৃতি নিয়ে পয়লা বৈশাখের আগে বৈশাখী মেলার আয়োজন করবে চারুতীর্থ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সজল ব্যানার্জি জানান, কর্মশালায় অংশ নেয়া শিশু কিশোরদের তৈরি ফুল, পাখি, প্রজাপতি, বাঘ, হাতি, রাক্ষসের প্রতিকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মুখোশ মেলায় বিক্রি করা হবে। পয়লা বৈশাখের এক সপ্তাহ আগে এই মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। মুখোশ ও প্রতিকৃতি তৈরির এই কর্মশালায় যে কেউ অংশ নিতে পারবেন বলে তিনি আরো জানিয়েছেন।
এছাড়া গতকাল ছিল পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদের হাটের দুইদিন ব্যাপী মুখোশ ও আল্পনা আঁকা কর্মশালার সমাপনী। সাংস্কৃতিক সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল জানিয়েছেন, কর্মশলায় তৈরি করা মুখোশ নিয়ে এবারের পয়লা বৈশাখের দিন মঙ্গলশোভাযাত্রায় অংশ নেবে চাঁদের হাট। এদিন বিকেলে চারুপীঠে মাসব্যাপী মুখোশ উৎসব আরম্ভ হয়েছে। এটির উদ্বোধন করেন কবি ও সাংবাদিক ফখরে আলম।