বারবাজারে গাজী কালু চম্পাবতীর মাজারে লাখো আশেকানের সমাগম

গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার
গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ লাখো আশেকান ভক্ত মুরীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারবাজারে ঐতিহাসিক গাজী, কালু ও চম্পাবতীর মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শেষ বৃহস্পতিবার একদিন ব্যাপী এই ওরস অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওরসের ৪/৫ দিন আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাজী, কালু, চম্পাবতীর ভক্ত ও বিভিন্ন আশেকানরা মাজার এলাকায় এসে জড়ো হতে থাকে। প্রায় ৪০ বিঘা এলাকা জুড়ে মানুষের উপচে পড়া ভীড়, ভক্তদের জিকির ,নাচ গান, হিজড়াদের নাচ গান চলে সারারাত। ওরসের দিন দুর দুরান্ত থেকে নারী, পুরুষ শিশু ,কিশোর বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীদের সকাল থেকেই ভীড় প্রলক্ষিণ হয়। এ সময় প্রায় লাখো মানুষের উপচে পড়া ভীড়ে কোথাও পা রাখার ঠাই পাওয়া যায় না ।
ওরসের স্থান ঃ কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার বাদুরগাছা গ্রামে ঐতিহাসিক গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার অবস্থিত। বারবাজার বাসষ্টান্ড থেকে ১ কিঃ মিঃ দুরে মাজার আস্তানায় পৌছাতে দর্শনার্থীদের ভীড়ের কারনে প্রায় আধাঘন্টা সময় লাগে। সকলেই মাজার এলাকায় এসে ধর্মমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাজারটি ৩৩ শতক জমির উপর অবস্থিত। কিন্তু ৩৯ বিঘা জমি জুড়ে বসেছে বিভিন্ন দোকান পাট। কোথাও মাইজ ভান্ডারী, গাজীর গান, ভক্তদের কাউয়ালী দেহতত্ব, হিজড়াদের নাচ গান ও আশেকানদের জিকিরে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। এছাড়া কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে আগরবাতী মোমবাতী জ্বালিয়ে মগ্নে আছে জিকির ও প্রার্থনায়।
ওরসে খুলনা, ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া ,যশোর, বেনাপোল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ ভারত থেকে আসা ভক্তবৃন্দদের আগমন ঘটেছে এখানে। অনেকে জানান, পীরকে ভালবাসি তাই মনের টানে দীর্ঘ বছর ধরে এ ওরসে এসে থাকি।
গাজী কালু ও চম্পাবতীর জীবন বৃত্তান্ত ঃ ইতিহাসে জানা যায়, বৈরাট নগরের শাহ সেকেন্দারের পুত্র গাজী। কালুকে তারা এক নদীপাড়ে কুড়িয়ে পেয়ে লালন পালন করে। সংসার বৈরাগী গাজী কালুকে সাথে নিয়ে প্রায় ৭ বছর সুন্দরবনে নিরুর্দ্দেশ থাকার পর ফিরে আসেন বাদুরগাছা গ্রামে। এ এলাকার শ্রীরাম রাজার দরবারে আসলে তাদেরকে ফকির ভেবে তাড়িয়ে দিলে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এরপর দৈবক্রমে রাজপ্রাসাদে আগুন লাগে ও রানী অপহৃত হলে জ্যোতিষিরা রাজাকে গাজী কালুর স্মরনাপন্ন হতে বলে। তখন শ্রীরাম রাজা গাজী কালুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে গাজী একমুষ্টি ধুলা পড়ে প্রাসাদের দিকে ছুঁড়ে মারলে আগুন নিভে যায় এবং অপহৃত রানী উদ্ধার হয়। রাজা তখন ইসলাম ধর্মে দিক্ষা নিয়ে তাদেরকে প্রাসাদে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুদিন পর এক ব্রাহ্মণ রাজা মুকুট রায়ের সাথে গাজীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রাজা পরিষদসহ আতœহত্যা করে। কেবল রাজকন্যা চম্পাবতি ও তার ভাই জীবিত ছিলেন। এরপর গাজী চম্পাবতীকে বিয়ে করে। সর্বশেষ বারবাজারের বাদুরগাছা গ্রামেই তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং এখানেই তাদের মাজার গড়ে উঠে। তাদের স্মরণে দুর দুরান্তের ভক্তবৃন্দরা প্রতিবছরই জাকজঁকম পুর্ণ ভাবে ওরস পালন করে আসছে।
বারবাজার ক্যাম্পের আইসি এসআই শিহাব উদ্দীন জানান, প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত থেকে অসংখ্য ভক্তবৃন্দের আগমণ ঘটে। ওরসে যাতে কোন বিশৃংখলা না ঘটে তার জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।

SHARE