মণিরামপুরের বাসিন্দা লতিফ হত্যা মামলার চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪

6

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের তাবিজ বিক্রেতা মণিরামপুর উপজেলার ঘুরুরাইল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ৪জনকে অভিযুক্ত করে মণিরামপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত)এসএম এনামুল হক যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলো, যশোর শহরের শংকরপুর সন্যাসী দিঘীরপাড়ের লিয়াকত আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলামের ছেলে বাচ্চু গাজী, সদর উপজেলার সতীঘাটা কামলাপুর গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন মোশা, মণিরামপুর উপজেলার জামজামি গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান এবং আক্তারুজ্জামান মুকুলের ছেলে হাফিজুর রহমান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ জুলাই মণিরামপুর থানা পুলিশ ব্রহ্মডাঙ্গা গ্রামের মাঠ থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ওই থানার এসআই তাপস কুমার রায় বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তকালে পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে বাচ্চু গাজীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। বাচ্চু গাজীর দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কারণ ও হত্যাকারীদের নাম জানতে পারে পুলিশ।
মামলা সূত্রে আরো জানা গেছে, আব্দুল লতিফ মণিরামপুরের ঘুরুরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় যশোর শহরের মণিহারের সামনে তাবিজ বিক্রি করতেন। আসামি বাচ্চু গাজীর সাথে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বাচ্চু মুড়লী মোড়ে বসে ছিল। এসময় লতিফ তাকে নিয়ে কুয়াদা বাজারে যায়। সেখানে লতিফ তার বেশ কয়েজন সহযোগীর সাথে দেখা করেন। এরপর তারা ব্রাহ্মনডাঙ্গা গ্রামের মাঠে যায়। লতিফকে তার সহযোগীরা গাঁজা দিতে বললে কোমরে বাধা গামছার মধ্যে থেকে একটি টোপলা বের করেন। টোপলার মধ্যে গাঁজা না থাকায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তারা সকলে মিলে লতিফকে ধরে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মুখে কাঁদামাটি মাখিয়ে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৪জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।