বাংলাদেশের মিশন এবার বিশ্বকাপ

6

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘স্বপ্নটা আকাশের মতো বড় হতে হয়’। বাংলাদেশের মেয়েরা সেটাই সম্ভব করে দেখাচ্ছে দুর্দান্ত ফুটবলের গল্প লিখে। পথচলা বেশিদিনের নাহলেও ধীরে ধীরে মারিয়া-আঁখি-তহুরা সেই গল্প এগিয়ে নিচ্ছে অবাক করেই। বয়সভিত্কি পর্যায়ে আঞ্চলিক টুর্নামেন্টগুলোতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে মেয়েরা এখন চোখ রেখেছে বিশ্বকাপে।
হুম ভুল পড়ছেন না বা দেখছেন না। লাল-সবুজের ঝান্ডা উড়তে পারে ফুটবল বিশ্বকাপ মঞ্চেও। ছেলেরা নাহলেও মেয়েদের হাত ধরে সেটা সম্ভব হতে পারে। তারই সিড়ি বেয়ে উঠার স্বরণীয় গল্প রচনায় ব্যস্ত গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।
ক’দিন আগেই গেল বছরে এএফসি অঃ ১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক বাছাইপর্বে বাহরাইনকে ১০-০, লেবাননকে ৮-০, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ ও শক্তিশালী ভিয়েতনামকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
‘দ্বিতীয় রাউন্ডেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত। ফিলিপাইনকে ১০-০ ও মিয়ানমারকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে এএফসির চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে অবশ্য চীনের প্রাচীর ভেদ করে জয় তুলে আনা সম্ভব হয়নি মেয়েদের। তবে, লড়াকু ফুটবল খেলে তারা প্রমাণ করেছে যোগ্যতার। সঙ্গে টিকিট নিশ্চিত করেছে সামনের বছরে অঃ ১৭ নারী বিশ্বকাপের চূড়ান্ত বাছাইপর্ব।’
এবার থাইল্যান্ডে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সেই বাছাইপর্ব হবে। এটাই এএফসির চূড়ান্ত পর্ব। এই পর্ব থেকে সেরা তিন দলই জায়গা করে নিবে বিশ্বকাপে। এই ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তবে লড়াই থেমে থাকবে না। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও জাপানের মতো বিশ্ব সেরা দলের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনে জায়গা করে নিতে হবে মেয়েদের।
স্বাগতিক মিয়ানমারকে ০-১ ব্যবধানে হারিয়ে এএফসি অঃ১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ
অন্তত চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে অত্যন্ত খুশি দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও, ‘দেড় বছরের কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনা সফল হতে চলেছে। দুর্দান্ত খেলছে মেয়েরা। আরও এগিয়ে যেতে চাই।’

মেয়েরা যেভাবে খেলে যাচ্ছে তাতে বিশ্বকাপ বেশিদূরে নয়। কঠিন তবে অসম্ভব নয়।
বাংলাদেশ দল:
মাহমুদা আক্তার, রুপ্না চাকমা, ইয়াসমিন আক্তার, আখি খাতুন, নাজমা, আনাই মুঘিনি, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, ঋতু পর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, মনি আক্তার, লাবণী আক্তার, সোহাগী কিসকু, লামনী, সুলতানা, অনুচিং মুঘিনি, জাহান, রেহানা আক্তার, শাহিদা আক্তার রিপা, শামসুননাহার, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার ও রোজিনা আক্তার।