সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা দমন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে দেশের সুনাম ক্ষুণœ করতে চেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের নামে যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণœ করবে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বন্ধন ও সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ দেশে বসবাসরত সকল ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের মধ্যে যে পারস্পারিক গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তা জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের বিষয়। স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণœ করতে চেয়েছে। তবে, আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে।
কুচক্রীমহল দেশে যাতে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। যারা সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের নামে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করবে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বন্ধন ও সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আত্ম মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ যাচ্ছি। দেশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশকে বিশ্ব সম্প্রদায় এখন সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে।
যতদিন বেঁচে থাকবেন দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাবেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আগামী দিনেও সুসম্পর্ক বজায় রাখবো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিকশিত হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের এ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় দেশ।
রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি নরওয়ে, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানরা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিভিন্ন দেশের মোট ৯৭ জন নেতা অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর জবাবে উল্লেখ করা হয়।
সরকারি দলের আব্দুল মতিন খসরুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর ভিত্তিতে কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চলে। ওই নীতিমালায় শিক্ষা কমিশনের কথাও উল্লেখ আছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে।

SHARE