চৌগাছায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গম চাষ ॥ ভাল ফলনের আশায় কৃষক

অমেদুল ইসলাম, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি॥ দেশে গম চাষ এক সময় ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। সেই সাথে তাল মিলিয়ে সীমান্তবর্তী উপজেলা যশোরের চৌগাছাতেও এর বিস্তার ঘটে। কিন্তু নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দেশের দানা ফসল হিসেবে ২য় স্থান অধিকারী এই ফসলের চাষ ব্যাপক ভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে গত ৩/৪ বছর ধরে গম চাষে ভাইরাস দেখা দেয়ায় কৃষক চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় গম চাষ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে।
সূত্র জানায়, যশোরের চৌগাছা উপজেলা কৃষি পন্য উৎপাদনের জন্য বরাবরই বিখ্যাত। এ জনপদের কৃষকরা নানা প্রতিকুলতার মধ্যে বছরের প্রায় বার মাসই কোন না কোন ফসল উৎপাদনের সাথে ব্যস্ত থাকেন। তাদের উৎপাদিত ফসলের মধ্যে অন্যতম একটি গম। আশির দশকে এ জনপদের চাষিরা তাদের ক্ষেত খামারে ব্যাপক ভাবে গম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই গম চাষে দেখা দেয় মন্দাভাব। বিশেষ করে গত ৩/৪ বছর ধরে গম চাষ ব্যাপক ভাবে হ্রাস পায়। গমে ভাইরাস দেখা দেয়ায় কৃষক ক্ষতির সম্মুখিন হতে থাকে। তাই কৃষকের কথা বিবেচনা করে উপজেলা কৃষি অফিস গম চাষ থেকে কৃষকদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করে। তবে বর্তমানে ভাইরাস না থাকায় কৃষককে আবারও গম চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে কৃষি অফিস। তাদের কথায় সাড়া দিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠে উল্লেখযোগ্য গম চাষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবং কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখানা দিলে গম চাষে কৃষক এবার বেশ লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ হেক্টর বেশি। চলতি বছর ৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও তা অতিক্রম করেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদন ও খাদ্যের দিক দিয়ে দানা ফসল হিসাবে গম ২য় স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ ধানের পরেই গমের স্থান। ১৯৯৮ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল, তাপ সহিষ্ণু ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্বাবন এবং কৃষক পর্যায়ে তা হস্তান্তর হওয়ায় গমের আবাদ, উৎপাদন ও ফলন সে সময় থেকে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
কৃষকরা জানান, গম চাষ করতে হলে সেচসহ নির্ধারিত সময়ে ইউরিয়া সারের দুই তৃতীয়াংশ এবং টিএসপি, এমপি ও জিপসাম চাষের পূর্বে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর নিয়ম মাফিক পরিচর্চা করলে ভাল ফলন আশা করা যায়। গমের রয়েছে অভাবনীয় পুষ্টিগুন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচউদ্দিন বলেন, চৌগাছা এলাকায় গম চাষে হঠাৎ ভাইরাস দেখা দিলে কৃষককে এই চাষ না করার জন্য বলা হয়। কৃষক তাতে সাড়া দিয়ে গম চাষ কমিয়ে দেয়। কিন্তু ভাইরাস বর্তমানে দেখানা দেয়ায় আবারও কৃষক গম চাষে মনোযোগী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে লক্ষ্য মাত্রার বেশি গম চাষ হয়েছে। কৃষি অফিস এসকল কৃষককে সর্বদা সহযোগী দিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।