‘সমাজসেবী ও সমাজকর্মী’র চেয়ার দখলের শীর্ষে যশোরের কাজী পরিবার

নিজ ঘরের সন্ত্রাস ও মাদক দমনে ব্যর্থতা

সীমান্ত রহমান॥ নিজ ঘরের সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী পরিবারের কয়েক সদস্য শান্তি শৃঙ্খলা কমিটির বড় বড় চেয়ার দখল করে বসে আছে। জনগণের শান্তি রক্ষার নামে তারা চেয়ার দখলের জন্য ‘সমাজসেবী-সমাজকর্মী’ বনে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময়ের যশোরের শীর্ষ মাদক বিক্রেতা কাজী তারেকের ভাইপো হওয়ার কারণে রাকিবকে ভাইপো রাকিব বলা হয়। অর্ধডজন খুনসহ অন্তত দুই ডজন মামলার আসামি ভাইপো রাকিব।
যশোর পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড শংকরপুর সার গোডাউন প্রাণিসম্পদের মোড়ের শান্তি শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর। কিন্তু ওই কমিটিতে সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবের আপন চাচা কাজী জাহিদ। কাজী জাহিদ ২০ বছর আগে ঢাকায় দেড় কেজি হেরোইনসহ পুলিশের হাতে আটক হন। এ মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে আপিল করে কমিয়ে এনে ৭ বছরের দণ্ড রয়ে যায়। ৭ বছর দন্ড ভোগ করার পর বর্তমানে কাজী জাহিদ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সাধারণ মানুষের শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশের সহযোগি শান্তি শৃঙ্খলা কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। একই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে ভাইপো রাকিবের আরেক চাচা কাজী জাহিদ। অথচ নিজের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে এক সময় আহত হয়েছিলেন জাহিদ। ওই কমিটিতে রয়েছে রাকিবের আপন ভাই হাসিব।
এছাড়া নিউ রামকৃষ্ণ আশ্রম সড়কের পশ্চিমাঞ্চল শান্তি শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি আব্দুল আলী। সেক্রেটারি ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। কিছুদিন আগে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আবুল কালাম আজাদকে সরিয়ে রাকিবের আপন মামা ইসমাইল হোসেন খোকনকে করা হয়েছে সেক্রেটারি। অথচ এই খোকনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এলাকার বিধবা নারীদের বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলেও এলাকায় প্রচার রয়েছে।
উল্লেখ্য, চাঁচড়া বাবলাতলা মৎস্য কল্যাণ সমিতির সভাপতি করা হয়েছে ভাইপো রাকিবের পিতা কাজী তৌহিদকে। গত ২৩ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ওই কমিটি করা হয়েছে। তবে কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে রাকিবের আরেক চাচা কাজী জাহিদ হোসেনকে। এছাড়া রাকিবের আরেক সহযোগি হত্যাসহ অন্তত দুই ডজন মামলার আসামি সাহেদ হোসেন নয়নকে করা হয়েছে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক। আবার রাকিব নিজেই হয়েছেন ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। ব্যবসা না করে এ দুই সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে সম্পূর্ণ কমিটি নেয়া হয়েছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে।

ফলে স্থানীয়দের ধারণা অশান্তি সৃষ্টিকারীরা শান্তি শৃঙ্খলা কমিটির শীর্ষ পদে আশীন হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। এলাকাবাসী মনে করেন পরিবারের সন্ত্রাসী কর্মকা-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শান্তি শৃঙ্খলা কমিটি এবং ব্যবসা না করেও মৎস্য সমিতিতে অর্ন্তভুক্তি হয়েছে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাই সাধারণ লোকজনে বলছেন নিজেদের ঘরের আগুন নেভাতে ব্যর্থ হলেও বাইরে শান্তির দূত হিসেবে কাজ নিজেদের চাউর করছে কাজী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

সূত্র মতে, ভাইপো রাকিব ও হিটার নয়ন সাবেক পিপি আবু শাহরিয়ার অর্নব, খুলনার ট্রাক চালক ও হেলপার, শংকরপুরের রিপন, রেলগেট পশ্চিপাড়ার ইজিবাই চালক রুবেলসহ অন্তত অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাছাড়া অস্ত্র, বোমা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, মাদকসহ অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে।

SHARE