যশোরের শেখহাটির মামুন হত্যাকাণ্ড ।। আদালতে ৪ জনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আব্দুল্লাহ আল মামুন হত্যা মামলায় ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শহরতলীর বিরমপুরের বন্ধু বাপ্পাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মামুনসহ তিনজনকে কুপিয়ে হতাহত করে। ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী, বুলবুল ইসলাম, গৌতম মল্লিক ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দিন হোসাইন এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে সোমবার শেখহাটি আদর্শপাড়া জোড়া পুকুরের মধ্যে থেকে মামুনকে খুনের ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল ও দুইটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আসামিরা হলো, শহরের ঘোপের আব্দুস সুবর খোকার ছেলে সুজন ওরফে ছোট সুজন, শহরতীলর শেখহাটি খাঁ-পাড়ার তাজু শেখের ছেলে তামিম রেজা, আদর্শপাড়া ভাটারমাঠ এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে ফয়সাল এবং হারুন শেখের ছেলে সুমন।
জবানবন্দিতে সুজন, তামিম, ফয়সাল ও সুমন জানিয়েছে, শনিবার বাপ্পা নামে এক যুবক আদর্শপাড়ায় ঘুরতে আসে। এ সময় তাকে সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাপ্পাকে আটকে রাখে। এ খবর পেয়ে আরিফ, মামুনসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে তাকে উদ্ধারের জন্য আদর্শপাড়া জোড়া পুকুরের মধ্যে আসে। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আরিফ, মামুনসহ অন্যরা তাদের মারপিট শুরু করে। পাল্টা আক্রমণে মামুন ও আরিফ গুরুতর আহত হয়। পরে তারা শুনেছে হাসপাতালে নেয়ার পর মামুন মারা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাপ্পাকে আটকে রেখে সাগর তার খালাকে মোবাইল ফোনে সংবাদ দেয়। মামুন, আরিফসহ তার বন্ধুরা সেখানে উদ্ধারে যায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রথমে সাগর ও পরে অন্যরা তাদের কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর জখম আরিফ ও মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে মামুন মারা যায়। এ ব্যাপারে নিহতের মা বকুল খাতুন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনকে আসামি দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগে ওই চারজনকে আটকের পর সোমবার আদালতে সোপর্দ করে। চারজনই হত্যার সাথে জড়িত ও অপর জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

SHARE