মণিরামপুরে মহিলা লীগ নেত্রীর হস্তক্ষেপে পাচারের হাত থেকে রক্ষা পেল তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ মহিলা লীগ নেত্রী ডলি পারভীনের তৎপরতায় ভারতে পাচারের হাত থেকে রক্ষা পেলো শারমিন নামের এক তরুণী। ডলির সহযোগিতায় মণিরামপুর থানা পুলিশ রোববার মধ্যরাতে পৌরশহরের তাহেরপুর গ্রাম থেকে শারমিনকে উদ্ধার করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই যুবককে থানায় আনে। এরা হলো পৌর এলাকার ওয়াজেদ মাস্টারের ছেলে আব্দুর রহমান ও একই গ্রামের মোস্তাকের ছেলে রুবেল হোসেন। পুলিশ পাঁচারচক্রসহ ওই চক্রের মাস্টার মাইন্ড মোস্তাককে খুঁজছে পুলিশ। মোস্তাক তাহেরপুর এলাকার মৃত এনায়েত মুহুরীর ছেলে।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বানিয়াছাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে এই শারমিনকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ দিন আগে এখানে আনা হয়।
উপজেলা মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্কুল শিক্ষিকা ডলি পারভীন বাসা থেকে নেমে মোবাইলে ফ্লেক্সি দিতে আসলে রোববার রাত ৯ টার দিকে শারমিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাকে দেখে শারমিন তার কাছে এগিয়ে এসে চট্টগ্রামে যাবার জন্য একটি বাসে উঠিয়ে দেয়ার আকুতি জানায়। এসময় শারমিনের কাছে পুরো ঘটনা জানতে চান।
শারমিন তাকে জানায়, গত ৪ দিন আগে তাকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এখানে এনে ঘরে আটকে রাখা হয়। তিনি কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এরপর পুরো ঘটনা খুলে বললে ডলি বিষয়টি মণিরামপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই শারমিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
অপহরণের শিকার শারমিন জানায়, গত ৪ দিন আগে নিজ গ্রামের এক নারী তাকে ভারতে কাজ দেবে বলে প্রথমে যশোরে আনে। তারপর রোববার দুপুরে তাকে নিয়ে মণিরামপুরে আসে ওই নারী। মণিরামপুরে আসার পর স্থানীয় কয়েকজনের সাথে ওই নারীকে আড়ালে কথা বলাসহ তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় তার। পরে শিক্ষিকা ডলির কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাকে উদ্ধার করেন।
মণিরামপুর থানার এসআই খান আব্দুর রহমান জানান, মোস্তাক এঘটনার মাস্টার মাইন্ড বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে। মোস্তাকের তিন স্ত্রী। তারমধ্যে দ্বিতীয়জন যশোরে থাকেন। আর তার ছোট স্ত্রী ভারতে থাকে। মণিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের ফুসলিয়ে ভারতে নিয়ে বিক্রি করে তার ছোট বউ। শারমিনকে কাজ দেবে বলে যে নারী তাকে সাথে এনেছিল, প্রথমে সে ওই কিশোরীকে নিয়ে যশোরে মোস্তাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় ওঠে। পরে রোববার দুপুরে শারমিনকে মণিরামপুরে আনে চক্রটি।
থানার ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, পুরো চক্রটিকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই যুবককে থানায় আনা হয়েছে।

SHARE