বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে দুই দেশের সরকার ও জনগণ ভূমিকা রাখছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেছেন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে আমেরিকা ও বাংলাদেশ সরকার টু সরকার এবং জনগণ টু জনগণ দৃঢ় ভূমিকা রাখছে। আমরা এ ব্যাপারে জনগণকে সহযোগিতা করছি। সোমবার বিকালে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিটি বেগুন ও ভুট্টা চাষের প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে কেন্দ্রের সভাকক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মিশেল এডেলম্যান, এইএসএআইডি এর ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেনাসেলাহি। সেমিনারে বিটি বেগুনের উপর ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। আর ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ এর উপর তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন বারীর সাবেক ডিরেক্টর ও সেক্স ফেরোমন পদ্ধতির উদ্ভাবক ড. এস এন আলম।
সেমিনারে বলা হয়েছে, ভুট্টার জন্যে ফল আর্মিওয়ার্ম সাংঘাতিক রকমের ক্ষতিকর একটি পোকা। এ পোকার আক্রমণ হলে দুই একদিনের মধ্যে ভুট্টার খেত নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের ২২ জেলার ৩৮টি এলাকায় এ পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। এখনই এটি দমন করতে না পারলে ভীষণ ক্ষতি হয়ে যাবে। আমেরিকার ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকার এ পোকা দমনে যৌথভাবে কাজ করছে। এর আগে সকালে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা এলাকায় ফুল চাষাবাদ পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, ‘যশোরাঞ্চলের ফুলের ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে প্রতি বছর। এ বাজার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রপ্তাানির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফুল চাষে এখানকার নারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ সম্ভাবনা বাড়াতে চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে আমেরিকার ইউএসএআইডি। বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে।’
এরআগে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামে ফুলের চাষাবাদ দেখতে যান। পরে ফুলচাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার যশোর ও খুলনা এলাকার পরির্দশনের অংশ হিসেবে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গদখালিতে যান। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মিশেল এডেলম্যান, এইএসএআইডি এর ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেনাসেলাহি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি (সেচ) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম প্রমুখ।
প্রথমে তিনি স্ত্রী মিশেলকে নিয়ে বিভিন্ন ফুলের শেড পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি স্থানীয় চাষি ও উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় চাষিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মার্কিন সরকারের সহায়তা কামনা করেন। মিলার তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এছাড়া ইউএসএআইডির প্রাইভেট সেক্টর বিভাগের উপদেষ্টা অনুরদ্ধ রায় জানান, তারা চাষিদের উন্নত চাষাবাদ ও মানসম্মত ফুল উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এতে উৎপাদনশীলতা ১৫০ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। এজন্য পানিসারা গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম অত্যাধুনিক ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামীতে প্যাকেজিং, গ্রেডিং ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে ইউএসএআইডি।

SHARE