জেলা পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না

শুনানিতে যশোরের সুশীলসমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শতবর্ষী যশোর জেলা পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এমন মতামত দিলেন যশোরের সুশীলসমাজ। সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক তদন্তের শুনানিতে এই মনোভাব জানিয়ে দেয়া হয়।
‘ঐতিহ্যের স্মারক যশোর জেলা পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সুশীলসমাজ’ এমন সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের পর তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্তকার্য পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার খুলনা বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার।
গত ৩১ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. জুলিয়া মঈন স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ খুলনার পরিচালককে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তের শুনানিতে জেলা পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন ‘যশোর ঐতিহ্য রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বায়ক প্রবীণ সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ, সদস্য সচিব অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, সদস্য হারুণ অর রশীদ, ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, তসলিম উর রহমান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ পরিচালক নূর ই আলম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, যশোর জেলা পরিষদ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যশোরের সুশীলসমাজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এ তদন্ত হয়।
১৫ জানুয়ারি যশোর জেলা পরিষদ কনডেমনেশন কমিটির সভায় অভিবক্ত বাংলার প্রথম জেলা শহর যশোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী যশোর জেলা পরিষদ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। একইসাথে সচিব ও প্রকৌশলীর বাসভবনও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল সেসময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জেলা পরিষদের আয়বর্ধনে শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা পরিষদের এ জায়গায় পরিষদের সকল ভবন ভেঙে বহুতল বিশিষ্ট অফিস ভবনসহ অডিটোরিয়াম ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যেখানে অত্যাধুনিক আন্ডার গ্রাউন্ড পার্কিং ব্যবস্থা, মার্কেট, সিনেপ্লাক্স, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, আধুনিক ও মানসম্মত আবাসিক হোটেল সর্বোপরি আধুনিক অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে।
যশোরে যে কটি পুরানো ভবন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে তার মধ্যে জেলা পরিষদ ভবন অন্যতম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ প্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করে আসছে। একসময় জেলার সকল উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের প্রতিষ্ঠান যশোর তথা যশোরবাসীর গর্ব এ ভবন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৩ সালে। ২০১৩ সালে ৩ মার্চ জেলা পরিষদ ভবন একশ’ বছর পূর্ণ করেছে। এ ভবন প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর আগে ১৮৮৬ সালে এখান থেকে এ অঞ্চলে সেবা প্রদান করা শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
জেলা পরিষদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২শ’ ৩৩ বছর আগে ১৭৮১ সালে যশোর জেলা ঘোষণার পর জেলার উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮৮৫ সালের লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় জেলা বোর্ড সৃষ্টি হয়। লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় জেলা বোর্ড সৃষ্টির পর পরই ১৮৮৬ সালে যশোর জেলা বোর্ড সৃষ্টি এবং ৩ মার্চ ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে জেলা বোর্ড ভবন নির্মিত হয়। যা অবিষ্কৃত অবস্থায় একশ’ বছর ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে আছে।

SHARE