অমর একুশে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ১৯৪৮ সালে রাজনীতিবিদদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি পাকিস্তান গণপরিষদে দাঁড়িয়ে বাংলাকে গণপরিষদের ভাষা করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। সাহসী ও নির্ভীক এই ব্যক্তি ছিলেন একাধারে কুমিল্লার কৃতী সন্তান, রাজনীতিবিদ ও ভাষাকর্মী। পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন এবং পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি করাচিতে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের প্রথম সভায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। তখন পাকিস্তানের গবর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি। ওইদিন গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন বিধির ২৯ নম্বর উপধারা সংশোধনের জন্য ইংরেজী ভাষার সঙ্গে উর্দু ভাষা যুক্ত করার সরকারী প্রস্তাবের ওপর পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বাংলাকে আইন সভায় চালু এবং রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট স্যার, আমার সংশোধনী-“২১ নং বিধির ১ নম্বর উপবিধির ২ নম্বর লাইনে ‘ইংরেজি’ শব্দের পরে ‘অথবা বাংলা’ শব্দ দুটি যোগ করা হোক।” স্যার আমার নামে বরাদ্দকৃত এই সংশোধনী উপস্থাপনকালে এই পরিষদকে এই মর্মে আশ্বাস দিতে পারি যে, আমি সংকীর্ণ প্রাদেশিকতার মানসিকতা থেকে এই সংশোধনী উপস্থাপন করিনি। তবে আমার বিশ্বাস রয়েছে যে এই সংশোধনী পরিষদের সদস্যদের পূর্ণ বিবেচনা অর্জনে সক্ষম হবে। আমি জানি যে বাংলা একটা প্রাদেশিক ভাষা। কিন্তু আমাদের দেশে (পাকিস্তানে) এই বাংলা হচ্ছে সংখ্যাধিক্য নাগরিকের মাতৃভাষা।
তাই যদিও এটা একটা প্রাদেশিক ভাষা, তবু পাকিস্তান রাষ্ট্রের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বাংলা বিধায় একটা বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এর মর্যাদা বিচার করতে হবে। পাকিস্তানের ছয় কোটি ৯০ লাখ লোকের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাহলে স্যার দেশের রাষ্ট্রভাষা কোনটি হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে? নিশ্চয় দেশের অধিকাংশ লোক যে ভাষা ব্যবহার করে থাকে সেই ভাষাই হবে দেশের রাষ্ট্রভাষা এবং এজনই স্যার বিবেচনায় বাংলা ভাষাই হচ্ছে দেশের ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাংকো।’

SHARE