ফের শীত পড়ায় চাঙ্গা যশোরের গাছিরা

সালমান হাসান রাজিব
বর্ষপঞ্জিতে এখন শীতকাল। তারপরও সপ্তাহখানেক ধরে লাপাত্তা ছিল শীত। তবে দু’দিন হলো ফের জেঁকে বসেছে শীত। ফলে হাসি ফুটেছে যশোরের গাছিদের মুখে। আরো বেশ কিছুদিন টানা ঠান্ডা থাকুক। অন্তত মাঘ মাসটা জুড়ে। আর কেউ না চাইলেও, লম্বা একটা ‘ইনিংস’ খেলুক শীত চাইছেন গাছিরা। যাতে জমিয়ে করা যায় রস ও গুড়ের ব্যবসাটা।
ফি-বছরই দেরিতে শীত পড়ছে। চলেও যাচ্ছে দ্রুত। ফলে কমছে রসের উৎপাদন। গাছিরা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সাথে ওঠানামা করে গাছ থেকে রস আহরণ। তাপমাত্রা বাড়লে মানও কমে যায় রসের।
দুদিন ভালো শীত পড়ায় টইটুম্বুর করছে খেজুর গাছের মুড়ো। আর তাই বেজায় খুশি গাছিরা। গাছে পাতা ঠিলেতে সকাল বিকেল ভাল রস জমছে। পুরো মাঘ ধরে এমনি চললে রস গুড়ের ব্যবসাটা জমিয়ে করা যাবে বলছিলেন যশোর সদরের সুজলপুরের গাছি খোকন বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবছর একশটি গাছ কাটা, তোলা ও চাঁছার দায়িত্ব নিয়েছেন। একাজে তাকে সহায়তা করছেন তার এক ছেলে ও দুজন শিষ্য। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত জমিয়ে শীত পড়ায় ভালো পরিমাণ রস পেয়েছেন। রস বিক্রির পাশাপাশি তা দিয়ে অনেক গুড় বানিয়েছেন।
কিন্ত সপ্তাহ খানেক শীত কম পড়ায় রসের পরিমাণ কমে গেছে। তেমনি মানও খারাপ হয়ে গেছে রসের। শীত গাঢ় হলে রসের মান যেমন ভালো হয়, সেই থেকে তেমন ভালো গুড়ও হয়। গরম পড়লে রস ঘোলা হয়ে যায়। এতে খারাপ হয়ে যায় রসের মান। গুড়ও ভালা হয় না। টক হয়ে যায় বলেন তিনি। দুদিন হলো ফের আবার শীত বেড়েছে। তাই রসও বেশ ভালো হচ্ছে। রসের মান ও পরিমাণ দুটোই বাড়ছে। মাঘ মাস জুড়ে এমনটা চললে গাছিরা লাভবান হবেন বলে তিনি আরো জানান।
‘যশোরে এখনও অনেক খেজুর গাছ রয়েছে। যা থেকে প্রচুর রস পাওয়া সম্ভব। কিন্তু গাছ কাটার লোক কমে গেছে। গাছে ঠিলে ঝুলানোর লোক না থাকলে রস আসবে কোথেকে। এখনকার ছেলেপুলেরা কেউ আর গাছে উঠতে চায় না।’- বলছিলেন যশোর সদরের ভাতুড়িয়া এলাকার গাছি লুৎফর রহমান। এছাড়া দিনকে দিন শীত মৌসুম ছোট হয়ে আসছে। এর জন্যও রস উৎপাদন কমছে বলে জানান তিনি।
যশোরে যে খেজুর গাছের সংখ্যা নেহাত কম না কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানও অন্তত তাই বলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কার্যালয় সূত্র মতে, রস দিতে সক্ষম জেলায় এমন খেজুর গাছের সংখ্যা ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭০টি। জেলার খেজুর ও তাল গাছ নিয়ে করা প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিবেদন বলছে, নতুন করে কেউ গাছ কাটার পেশায় না আসায় কমছে গাছির সংখ্যা। ফলে বর্তমানে রস আহরণ হচ্ছে মোট গাছের শতকরা ৪০ টি থেকে।