যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোববারের চিত্র

রোগী না দেখে প্রায় তিন ঘণ্টা সভায় চিকিৎসকরা, রোগীদের চরম দুর্ভোগ

এস হাসমী সাজু
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রায় তিন ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা বাদ রেখে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের পরিচিতি সভায় অংশ নিয়েছে বলে সেবা প্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে চরম কষ্ট ও দুর্ভোগ পেয়ে অনেকে চিকিৎসা না নিয়ে চলে গেছেন। অনেকে রোগের যন্ত্রণার সাথে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করেন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ দৃশ্য সত্যিই বেদনা দায়ক ছিল বলে রোগী কল্যাণ সমিরি নেতারা মনে করছেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র মতে, রোববার সকালে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় সভাকক্ষে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের সভার সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ চিকিৎসক ও সেবিকা ও ইন্টার্নি চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সকাল সাড়ে নয়টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। চিকিৎসকরা ওই অনুষ্ঠানে থাকায় ওয়ার্ডে রাউন্ডে যাননি। এমনকি কতিপয় চিকিৎসকরা সভায় অংশ না নিলেও বহিঃবিভাগে চেম্বারে বসেননি। যে কারণে দূর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের বহিঃবিভাগের চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। আবার অনেকে অধৈর্য্য হয়ে সেবা না নিয়ে ফিরে যান।
অপরদিকে, হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে চিকিৎসক রাউন্ডে আসবেন বলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বয়রা রোগীর স্বজনদের ওয়ার্ড থেকে বের করে দেন। স্বজনরাও ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সামনে অপেক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসক রাউন্ডে আসেন না তারাও ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারেনি।
হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সার্জারি চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে অপেক্ষমান রোগী জবেদ আলী মোল্লা জানান, সকাল নয়টার দিকে ডা. অজয় কুমার সরকারকে দেখাতে এসেছেন। কিন্তু পৌনে ১২ পর্যন্ত তিনি চেম্বারে আসেননি। ফলে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপরদিকে বহিঃবিভাগের মেডিসিন চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখাতে আসেন যশোর সদর উপজেলার তফসিডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম (৪৫)। তিনি জানান, আটটার দিকে হাসপাতালে এসে টিকিট কেটে এক নং রুমের চিকিৎসকের চেম্বারের কাছে অপেক্ষা করছি। কিন্তু সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই। শুধু সার্জারি বা মেডিসিন বহিঃবিভাগের চেম্বারেই নয় চিকিৎসক ছিলেন না হৃদরোগ, অর্থপেডিক্স, শিশু, গাইনিসহ অধিকাংশ বহিঃবিভাগে। তবে নিয়ম মেনে রোগী দেখেছেন কয়েকজন চিকিৎসক।
হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে কথা হয়, যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া গ্রামের আনিছুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডে চার দিন তার চাচা ভর্তি আছেন। এখন একটু সুস্থ্য। আজ রোগী ছাড়পত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু চিকিৎসক না আসায় এখনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন যশোর সদর উপজেলার আবাদ কচুয়া গ্রামের আবু বক্করের স্ত্রী পারভীনা
বেগম (৪৮)। তার স্বামী আবু বক্কর জানিয়েছেন, সেবিকারা সেবা দিয়েছেন জরুরি বিভাগের ব্যবস্থাপত্র দেখে। কিন্তু ১২ টা পর্যন্তু কোন চিকিৎসক দেখার জন্য আসেননি।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ডে সেবিকা জানান, চিকিৎসকদের অনুষ্ঠান থাকায় এখনও তারা রাউন্ডে আসেনি। তবে দ্রুত আসবেন। এদিকে নার্সিং সুপারভাইজারা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের মিটিংয়ের কারণে বহিঃবিভাগের সেবিকারা সেখানে আছেন।
হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. অজয় কুমার সরকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মেনে নিয়ে বলেন, মেডিকেল কলেজের ক্লাস করে আসতে একটু দেরি হয়েছে। তবে সকল রোগীকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, আসলে অফিস সময়ে সভা করা ঠিক হয়নি। আগামীতে এমন ভুল হবে না।