জনগণের রায় শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে : প্রধানমন্ত্রী

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিগত নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। জনগণ এই ভোট দিয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সরকার, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী সবাই মিলে সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ দূর করতে হবে। মাদক আর সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, বিজয় পাওয়া কঠিন কিন্তু সেই বিজয় ধরে রাখা আরও কঠিন। জনগণ রায় দিয়েছেন শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে। তারা শান্তি চায়। তারা উন্নয়ন চায়, চায় বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক। তাই সবাইকে জনগণের সেবা করার দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’

শরিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও সাদেক খান, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এবং ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী শোভন।

সভা শুরু হওয়ার আগে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। বিজয় সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীরা শিল্পীদের বিভিন্ন পরিবেশনায় নাচে-গানে আনন্দে মেতে ওঠেন। এছাড়া মহানগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের লাল-সবুজ রঙয়ের ক্যাপ-গেঞ্জি ও দলীয় পতাকায় ভিন্ন মাত্রা পায় বিজয় উৎসব।

আরো পড়ুন: আ.লীগের বিজয় সমাবেশে যা বললেন প্রবীণ নেতারা

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (বিভিন্ন রাজনৈতিক দল) এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে অর্থবহ করেছে। জয়-পরাজয় একটা নির্বাচনে স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি এটুকু তাদের বলতে চাই, আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কায় ভোট পেয়ে জয় পেয়েছে এটা সত্য কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে এসেছে, যখন দায়িত্ব পেয়েছি জনগণের সেবা করার, যখন দায়িত্ব পেয়েছি মানুষের জন্য কাজ করার; তখন আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্যই আমাদের সরকার কাজ করে যাবে। প্রত্যেকের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নত করবো, সেখানে কোনও দল বা মত দেখা হবে না। প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সেবা করার দায়িত্ব জনগণ আমাদের দিয়েছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সেই ভোটের সম্মান যাতে থাকে, অবশ্যই আমরা সেই বিষয়টা সবসময় মাথায় রেখে সার্বিকভাবে সুষম উন্নয়ন করে যাবো দেশের জনগণের স্বার্থে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আরও আধুনিকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জনগণের এই রায় হচ্ছে, সেই আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষে রায়। এই রায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে রায়। এর ভিত্তিতে আমি বলবো, বাংলার মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের কোনও স্থান হবে না। দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাসের স্থান হবে না, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে। আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, সে অঙ্গীকার আমরা অক্ষরে-অক্ষরে পূরণ করবো। আজকের এই সমাবেশে আমি সে কথাই বলে যেতে চাই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

আরো পড়ুন: নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সব দলকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি। ব্যক্তিগত জীবনে কোনও চাওয়া-পাওয়া আমার নেই। স্বজন হারানোর সেই বেদনা নিয়েও এই দেশকে গড়ে তুলবো। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে, যে বাংলাদেশে একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। মানুষ ঘর পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে। তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বারবার ভোট দিয়ে আমাকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেই বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো আগামী দিনের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায়। বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এটাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন এবং পরে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যদের নিয়ে শেখ হাসিনার হাতে অভিনন্দনপত্র তুলে দেন। সমাবেশটি পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটের ১৯ দিন পর বিজয় উৎসব পালন করেছে আওয়ামী লীগ। বেলা ৩টার পরপরই শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে স্লোগানে স্লেগানে তাকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা।

আরো পড়ুন: স্লোগানে-গানে মুখর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

উদ্যানের ভেতরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয় ‘বিজয় মঞ্চ’, তার পেছনের ব্যানার সাজানো হয় দলের এবারের ইশতেহারের মলাটের রঙে।
বৈঠাসহ ছোট বড় ৪০টিরও বেশি নৌকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে সাজানো হয় সমাবেশ মাঠ।
জনসভায় যোগ দিতে সকাল ৯টায়ই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখী মিছিল দেখা যায় ঢাকার নানা স্থানে। বাংলা একাডেমির বিপরীত দিক দিয়ে উদ্যানে ঢোকার পথে ছিল দীর্ঘ সারি।
‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখর এই নেতা-কর্মীদের দুপুরে মাতিয়ে তোলেন জনপ্রিয় সব সঙ্গীত শিল্পী।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলমের পাশাপাশি কণ্ঠ মেলান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মমতাজও। এছাড়াও গান গেয়ে শোনান ফকির আলমগীর, জানে আলম, পথিক নবী, আঁখি আলমগীর, সালমা। ব্যান্ড দল জলের গানও তাদের পরিবেশনা নিয়ে আসে এই উৎসবে।
গানে গানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বন্দনা যেমন ছিল, তেমনি ছিল গত এক দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথাও।

শেয়ার