চৌগাছার প্রমাণিত ২৬ ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ফেরত নেয়ার দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের চৌগাছার প্রমাণিত ২৬ ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার আগে দেওয়া ভাতা ফেরত নেওয়ার দাবি করেছেন উপজেলার ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। গতকাল প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, ‘সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সারাদেশে সরকার প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করেছে। যাচাই বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২৬ জন ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৫৩ ও ৫৪তম সভায় অভিযুক্ত চৌগাছার ২৬ জনের শুনানি হয়। শুনানিতে কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হওয়ায় এবং সহযোদ্ধা হাজির করতে না পারায় মোহাম্মদ আলী, জেকের আলী, শফিয়ার রহমান, নূরু মিয়া, ইউসুফ আলী এবং শাহজাহান আলীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা থেকে বাদ পড়েন মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, লিয়াকত আলী, আশরাফ আলী, আবুল কাশেম, মতিয়ার রহমান, নূর ইসলাম, চকম আলী, সহিদুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম খান, কেরামত আলী, বাহারাম উদ্দিন, রমজান আলী, নূর ইসলাম, সামসুল আলম, আব্দুল আলীম, সাজেদুর রহমান, আলী আহাম্মদ, নূর হোসেন, মুজিবর রহমান এবং ওমর আলী। তবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়লেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তারা রয়েছেন। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারা এখনো ভাতা পাচ্ছেন। তবে সরকারি ভাতা তারা এখন উত্তোলন করছেন না।
কিন্তু গত ৭ জানুয়ারি চৌগাছা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এসব ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলন করে কিছু মিথ্য ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে ভাতা না পেয়ে তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সাথে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংক্রান্ত আরো কিছু মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা হয়। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ১৮ বছর ধরে জাল কাগজপত্র দাখিল করে ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি কোষাগার থেকে তারা লাখ লাখ সরকারি টাকা আত্মসাত করেছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে এসব টাকা ফেরত নেওয়ার দাবি করছি। আর সংবাদ সম্মেলন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংক্রান্ত যে মিথ্যাচার করা হয়েছে এজন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল ইসলাম, রুহুল আমিন, তোফায়েল আহমেদ, রবিউল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, আব্দুল বাতেন, আনোয়ারুল আরেফিন, আব্দুল লতিফ, ওলিয়ার রহমান, মতিউর রহমান, রওশন আলী, হায়দার আলী, আলতাফ হোসেন, আব্দুল সাত্তার, আব্দুল খালেকসহ উপজেলার ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা।

শেয়ার