খুলনায় রেকর্ডিয় জমিতে ‘লাল নিশান’র পর এবার উচ্ছেদে মাইকিং

এস এম সাঈদুর রহমান, খুলনা॥ খুলনা শহরতলীর ময়ুর নদী ও ক্ষুদে খাল এলাকায় জমি কিনে গড়ে তোলা ব্যক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমিতে ‘লাল নিশান’র পর এবার স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেসিসি ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ শুক্রবার মাইকিং করে তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কেসিসি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মালিকরা নদী সিকস্তি ও এডি লাইনের (নদীর ভেঙ্গে যাওয়া অংশ) জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একারণে উচ্ছেদ করা হবে।
তবে জমি মালিকরা অভিযোগ করেছেন, দলিল ও রেকর্ডসহ সকল কাগজপত্র দেখেই তারা জমি কিনে ট্যাক্স-খাজনা পরিশোধ করেই নিজ নিজ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে- ব্যক্তিগত রেকর্ডীয় জমিও নাকি নদী সিকস্তি ও এডি লাইনের মধ্যে রয়েছে। আর কোন ধরণের নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ করে ছুটির দিনে মাইকিং করে উচ্ছেদের সময় বেঁধে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। এ কারণে তারা উচ্চ আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এরআগে সম্প্রতি কেসিসির সম্পত্তি শাখা এবং জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়াররা ব্যক্তিগত রেকর্ডীয় জমি খালের সীমানায় অন্তর্ভূক্ত করে নদী সিকস্তি ও এডি লাইনের নামে ময়ুর নদ ও ক্ষুদে খাল খননের জন্য দ্বিতীয় দফায় সীমানা নির্ধারণ করে। এরমধ্যে শত বছর ধরে মালিকানায় থাকা পৈত্রিক সম্পত্তিতেও ‘লাল নীশানা’ ও ‘সীমানা পিলার’ বসানো হয়। এমনকি একাধিক মসজিদ-মাদরাসাও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। কেসিসির ও জেলা প্রশাসনের এ ধরণের খামখেয়ালীপনায় জমি মালিকরা চমরভাবে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। জমি ঠেকাতে বাধ্য হয়ে তারা ‘মযূর নদী ক্ষুদে খাল ভূমি রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আন্দোলনও করেছেন। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে তারা ১৯৬০ সালের এসএ ম্যাপ অনুযায়ী নদী খননের দাবি জানিয়েছেন।
ময়ুর নদী ক্ষুদে খাল ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি এস এ কাশেম বলেন, কেসিসি বেআইনীভাবে নগরের বাইরে এসে রেকর্ডিয় জমি মালিকদের জায়গায় লাল নীশানা ও সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। এখন কোন ধরণের নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদের জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে ছুটির দিনে মাইকিং করেছে। তবে, জেলা প্রশাসনের কথা বলা হলেও তাদের নোটিশ বোর্ডে এ ধরণের কোন নোটিশ নেই। তিনি অবিলম্বে এ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি জানান। অন্যথায় এ বিষয়ে দ্রুত উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তুহিন, আব্দুল গফ্ফার, আবুল কালাম আজাদ, আসাদুর রহমান, আরজাহান বানু ও নূর মোহাম্মদ শেখসহ অধিকাংশ জমির মালিক বলেন, যদি জমি প্রয়োজন হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী সরকার অধিগ্রহণ (এ্যাকোয়ার) করতে পারে। সেক্ষেত্রে জমি ও স্থাপনাসহ সকল সম্পদের উপযুক্ত মূল্য দিলে তারা সহযোগিতা করবেন।
কেসিসি’র সম্পত্তি শাখার প্রধান (স্টেট অফিসার) নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেসিসি’র কাছে সহযোগিতা চাওয়ায় তারা নদী সিকস্তি এবং এডি লাইনের মধ্যে থাকা অবৈধ স্থ্াপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করছেন। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শেয়ার