মেধাবী বিল্লালের লেখাপড়ার ভার নিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা

অমেদুল ইসলাম, চৌগাছা॥ অভাব অন্টনের সংসারে গরীব পিতাকে আর্থিক সহযোগীতার কথা চিন্তা করে স্কুল ছেড়ে স্বল্প বেতনে হোটেল বয়ের কাজ নিয়েছে শিশু শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন (১৪)। দিন শেষে রাত হলে সে ওই হোটেলে ঘুমিয়ে যায়। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছালে তিনি স্বশরীরে ওই হোটেলে ছুঁটে যান। হোটেল বয় শিশু শিক্ষার্থীর কাছে সব কথা শুনে তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ জানান নির্বাহী কর্মকর্তা। বিল্লাল হোসেন আবারও স্কুলে ফিরবে এই আনন্দে সে আত্মহারা। নির্বাহী কর্মকর্তার এই মহানুভবতাকে সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বিল্লাহ হোসেন উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের গুলজার হোসনের ছেলে ও মাকাপুর বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সদ্য প্রকাশিত জেএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ ৪.৪৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। গুলজার হোসেনের দুই ছেলে। বিল্লাল হোসেন বড়। অভাবের সংসারে অতি কষ্টে জেএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পেরেছে বিল্লাল। সংসারের অভাব ঘুচাতে সে লেখাপড়া বাদ দিয়ে পিতামাতার অনুমতি নিয়ে সম্প্রতি চৌগাছার একটি হোটেলে হোটেল বয়ের কাজ নেয়। সারা দিন কাজ শেষে রাতে ওই হোটেলের মধ্যেই সে ঘুমায়। বুধবার সন্ধ্যায় ওই হোটেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা হয় শিশু শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেনের। এ সময় সে তার কষ্টের কথা বলতে যেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলমের সাথে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি শোনার পর ওই হোটেলে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একপর্যায় দুপুর ১ টার দিকে তিনি স্বশরীরে হোটেলে উপস্থিত হয়ে শিশুটির নিকট তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শোনেন। বিল্লাল হোসেন এসময় নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন, দুই ভায়ের মধ্যে আমি বড়। বাবা গুলজার হোসেন দিনমজুর। ভিটাবাড়ির ২ শতাংশ জমি ছাড়া কোন জমি জায়গা নেই। পিতা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করছেন। তার কষ্টের কথা মনে করেই আমি পড়ালেখা বন্ধ করে স্বল্প বেতনে এই হোটেলে কাজ নিয়েছি। নির্বাহী কর্মকর্তা তার কথা শুনে আজ থেকেই হোটেলের কাজ বন্ধ করে তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন। শনিবার যথারীতি স্কুলে যাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। রোববার বিকালে তার পিতাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসার কথা বলেন। নির্বাহী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনকে বলেন, তোমাকে লেখাপড়া করতে হবে, মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তোমার লেখাপড়া অভাবের কারণে কখনও বন্ধ হতে পারে না। নির্বাহী কর্মকর্তার এই আশ্বাসে গরীব মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেনের দুই চোখের আনন্দ অশ্রুতে বুক ভিজে যায়। বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি আবারও স্কুলে যেতে পারবো, পড়ালেখা করতে পারবো, বন্ধুদের সাথে মিশবো এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকালেই সে হোটেল থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ সময় চৌগাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলমগীর মতিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম উজ্জ্বল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামীম রেজাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে মাকাপুর বল্লভপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিল্লাহ হোসেন একজন গরীব মেধাবী ছাত্র। আমি তার স্কুলের মাসিক বেতনসহ অনেক সহযোগিতা করে আসছি। তারপরও ছেলেটি অভাবের কারনে স্কুল ত্যাগ করছে বিষয়টি বেশ কষ্টদায়ক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদেরকে ঝরে পড়া রক্ষায় সর্বাতœকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ছেলেটির কথা শুনে আমি তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। নির্বাহী কর্মকর্তার এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।