মাগুরার মোখলেছ মৌমাছি চাষে স্বাবলম্বী করছেন বেকারদের

ফয়সাল পারভেজ (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ শীতকাল সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের মূল সময়। তাই মাগুরার মধু চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সরিষার হলদে মাঠগুলোতে। এজেলায় বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রতি বছর শুরু হয় কৃত্রিমভাবে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কার্যক্রম। সদর উপজেলার রাঘবদাইর, ইছাখাদা সংলগ্ন, সাইনবোর্ড কাঁশিনাথপুর, আলমখালী, শালিখা উপজেলার তিলখড়ি আড়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে মাঠে থাকা সরিষা ক্ষেতকে কেন্দ্র করে ৫০টির বেশি মৌ খামার বসিয়েছে এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত খামারিরা। মাগুরার সরিষার মধু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। দীর্ঘ দুই যুগ মৌ চাষি হিসাবে পার করেছেন সদর উপজেলার ইছাখাদা বাজারের মসজিদের ইমাম মোখলেছুর রহমান। এরই মধ্যে এমএ পাশ করেছেন তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। মাত্র সাত বছর বয়স থেকে বাবার মধু চাষ করা দেখে অনুপ্রানিত মোখলেছুর রহমান পড়াশোনার পাশাপাশি মধু চাষে নিজের বেকারত্ব নিজেই ঘুঁচিয়েছেন।
এলাকায় মোখলেছুর রহমানকে দেখে ঘুরে দাড়াঁনোর অনুপ্রেরনা পাচ্ছে বেকার যুবকেরা। মোখলেছ জানান, মৌ চাষের মাধ্যমে তারা নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে যা মধু আহরনে বেশ সুবিধা হয়েছে।
মোখলেছ বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বাবার মধূ চাষ দেখে তিনি আগ্রহী হন। এরপর বাবা মারা গেলে নিজেই লেগে যান এই পেশায়। ২০০১ সালে তিনি বানিজ্যিক ভাবে মধু চাষ শুরু করেন। প্রথম প্রথম তেমন লাভ না হলেও হাল ছাড়েন নি। লেগে থেকেছেন সফলতার স্বপ্ন নিয়ে। সাফল্য আসা শূরু হলে তিনি মধু সংগ্রহ ও চাষের একটি প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তোলেন যার নাম দেন মা ও মৌ। মধু আহরনই নয়, মৌমাছি বিক্রি করেও ব্যবসার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। প্রতি বক্সে ১০ টির মত মৌমাছির ট্রে থাকে, এক ট্রে মৌমাছি ১ হাজার চাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন,মৌ চাষ বরাবরই একটি ভাল আয়ের পথ। এই খাতে এখন অনেকে ছোট বিনোয়োগ করে লাভবান হচ্ছে। বিশেষ করে এই সরিষার মৌসুমে চাষীরা আগ্রহী হচ্ছেন মধু সংগ্রহে। মাগুরার মোখলেছ অনেকদিন ধরে মধু চাষে সফলভাবে এগিয়ে চলেছেন। সদর উপজেলা কৃষি অফিস সব রকম সহযোগীতা দিচ্ছে।

শেয়ার